
রাজধানীর বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। একই সঙ্গে অধিকাংশ মাছের দামও উচ্চ পর্যায়ে থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় আমিষ কিনতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তবে গরুর মাংস ও ডিমের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজি রুই ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতলা ২৩০ থেকে ৫০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং টাকি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চিংড়ির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী দাম বজায় রয়েছে। আকার ও প্রজাতিভেদে প্রতি কেজি চিংড়ি ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের কিছু চিংড়ির দাম ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
মুরগির বাজারে ব্রয়লারের পাশাপাশি সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি ডজন সাদা ব্রয়লার ডিম ১০০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত থেকে প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় রয়েছে।
ধানমন্ডির বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ নেই। চাষের মাছের দাম কিছুটা কম হলেও সামুদ্রিক মাছে তো হাতই দেওয়া যাচ্ছে না।’
ডিম বিক্রেতা মাসুম বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। আগে প্রতি ডজন ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন সাদা ডিম ১০০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা নাসরিন আক্তার বলেন, ‘সব মাছের দাম বেড়েছে। মানুষ খাবে কী? রুই কিনলাম ৩০০ টাকা কেজি।’
রায়েরবাজারের মাছ বিক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, নদী ও ঘের থেকে সরবরাহের ওপর মাছের দাম নির্ভর করে। চিংড়ির সরবরাহ কম থাকায় এর দাম বেশি। বর্ষা শুরু হলে নদীর মাছের সরবরাহ বাড়বে, তখন দাম কিছুটা কমতে পারে।
মুরগি বিক্রেতা মো. সোহেল বলেন, ‘সরবরাহ কম থাকায় আজ ব্রয়লারের দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।’