
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোকে আরও সুসংহত ও আধুনিক করতে নির্বাচনী আইন এবং আচরণবিধিতে আমূল সংস্কার আনার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে সিইসির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এসব খসড়া সংশোধনী চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইসির ১২তম এই গুরুত্বপূর্ণ কমিশন সভায় চারজন নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ—এই পাঁচ ধাপের স্থানীয় সরকার আইনি কাঠামোয় প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ পাঠানোর প্রস্তাবটি এই বৈঠকেই চূড়ান্ত হতে পারে। একই সাথে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার সংশোধনীর বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
কমিশন সভার এজেন্ডা ও আলোচনার ব্যাপ্তি নিয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান, স্থানীয় পর্যায়ের সবকটি নির্বাচনের আইন ও সংশ্লিষ্ট আচরণবিধির প্রয়োজনীয় সংশোধনী সংক্রান্ত বিষয়টি আলোচনার জন্য সভার কার্যসূচিতে রাখা হয়েছে। কমিশন যেভাবে মূল্যায়ন ও দিকনির্দেশনা দেবে, সে অনুসারেই বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হবে।
আইনে যেসব উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সুপারিশ তৈরি করছে কমিশন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পূর্ণকালীন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রার্থিতায় অযোগ্য ঘোষণা করা।
সংসদীয় আসনের মতো স্থানীয় সরকারের ভোটগুলোতেও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে (সেনাবাহিনী) আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।
দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ রুদ্ধ করা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চার্জশিটভুক্ত অভিযুক্তদের প্রার্থী হওয়ার পথ বন্ধ করা।
ঋণখেলাপি এবং বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও অংশীদারদের নির্বাচনী দৌড় থেকে বাদ দেওয়া।
বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ডেডিকেটেড নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা।
নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে শাস্তির মাত্রা ও জরিমানা বৃদ্ধি করা।
ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, কমিশন বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবনাগুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সুপারিশ হিসেবে পাঠানো হবে। উল্লেখ্য, আইনগত সংশোধনী কার্যকরের ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত পাওয়ার পর তা জাতীয় সংসদে পাস হতে হবে। তবে সংসদ অধিবেশন না থাকলে জরুরি অধ্যাদেশ জারির সুযোগও সরকারের হাতে থাকবে, যা পরবর্তীতে সংসদীয় অনুমোদনের মাধ্যমে স্থায়ী আইনে রূপ নেবে।
কর্মকর্তারা আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আজকের এই সভায় সার্বিক আইনের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা পরিবর্তনের বিষয়ে জোর আলোচনা হতে পারে। তবে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলার আচরণবিধি ঢেলে সাজাতে পরবর্তীতে আরেকটি কমিশন বৈঠকের প্রয়োজন হতে পারে।
যেহেতু আসন্ন স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে, তাই নির্বাচনী আচরণবিধিতে বড় পরিবর্তন আনা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে। নতুন প্রস্তাবনায় নির্বাচনী প্রচারে প্রথাগত পোস্টার ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি, বিলবোর্ড স্থাপন নিয়ন্ত্রণ এবং সোশাল মিডিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো সম্পর্কিত বেশ কিছু আধুনিক দিকনির্দেশনা যুক্ত করা হচ্ছে।