
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে একটি দিনের ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এর পটভূমি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফল। এই অভ্যুত্থানের ইতিহাস জাতীয় জীবনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আলোচনা-পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণীত হয়েছে। জাতীয় জীবনের জন্য এই সনদ দিকনির্দেশনা দেয়। জুলাইয়ের চেতনাকে কেবল বার্ষিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাহিত্য, নাটক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের অঙ্গীকার, জাতীয় জীবনের প্রত্যাশা এবং জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের যথাযথ মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে না। জুলাইকে ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের পথনির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার একটি পর্যায় শেষ হয়েছে। তবে কিছু বিষয় সাংবিধানিক এবং কিছু বিষয় আইন ও বিধিবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায়, যেটিকে কেউ সংস্কার হিসেবে অভিহিত করতে পারেন। তবে তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দল এখন পর্যন্ত সংশোধন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ লক্ষ্যে পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন এবং তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। শহীদদের আকাঙ্ক্ষা সেই পরিকল্পনারই অংশ।