
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে গিয়েও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ঢাকা-৮ আসনে অল্প ব্যবধানে পরাজয়ের পরও জাতীয় সংসদের প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ (সিনেট)-এ তার অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় এবং জুলাই সনদের ভিত্তিতে ১০০ সদস্যের যে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, সেখানে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হারের ভিত্তিতে সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে এনসিপি পেয়েছে মোট ২২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩১ ভোট, যা মোট ভোটের ৩ দশমিক ২১ শতাংশ। এই হার অনুযায়ী উচ্চকক্ষে দলটির অন্তত তিনটি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য তিন সদস্যের তালিকায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নামই শীর্ষে রয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি, তবে অভ্যন্তরীণ আলোচনায় তার নামই সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সামনে অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যদি তিনি মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, সেক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সদস্যপদে না-ও যেতে পারেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৩৩৬ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট। দু’জনের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র পাঁচ হাজারের কিছু বেশি।
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা জানিয়েছেন, উচ্চকক্ষে কারা মনোনয়ন পাবেন, তা নিয়ে জোট ও দলের ভেতরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হবে।