
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এর পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হবে।
এই ঘোষণার পর থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে মেয়র পদে বিএনপির অন্তত অর্ধডজন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন একজন প্রতিমন্ত্রী, সাবেক মেয়র প্রার্থী, সংসদ সদস্যসহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা।
বিএনপি
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় অন্তত তিনজন প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন। সরাসরি প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে প্রার্থী হওয়ার কথা জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ঢাকা-৬ আসন থেকে বিজয়ী হন ইশরাক। এর আগে ২০২০ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।
এ ছাড়া এই সিটিতে প্রার্থী হতে আগ্রহী বর্তমান প্রশাসক আব্দুস সালাম। তিনি একসময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন এবং ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে ভাবনা আছে বলেই তো এখানে এসেছি, না হলে তো এমপি-মন্ত্রী হতে হতো।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নামও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। ২০২০ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন।
এ ছাড়া ঢাকা উত্তর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক এম এ কাইয়ুমের নামও শোনা যাচ্ছে। তিনি বলেন, এটি দলের সিদ্ধান্ত। দল চাইলে আমি নির্বাচন করব।
এর বাইরেও বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনও মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের কাছে পরাজিত হন।
এনসিপি
রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রাথমিকভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে কয়েকজন নেতার নাম।
আলোচিত নেতাদের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এনিসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার নাম আলোচনায় রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে নানা কথাবার্তাও দেখা গেছে। আসিফ মাহমুদ নিজেও দাবি করেছেন যে, দল থেকে তিনি প্রার্থী হওয়ার একটি ইঙ্গিত পেয়েছেন।
এ ছাড়া ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনিও ঢাকা দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তাকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এনসিপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। তিনি ঢাকা-১৮ আসনে নির্বাচন করে ১ লাখ ১১ হাজার ২৯৭ ভোট পেয়েছিলেন। তার পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সর্দার আমিরুল ইসলামের নামও আলোচনায় রয়েছে।
জামায়াত
জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রভাব রাখতে চায় জামায়াতে ইসলামী। এ লক্ষ্যে দলটি প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে চমক দেখাতে চায় বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এরই মধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, জামায়াত থেকে বেশ কয়েকজন নেতা মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী। এর মধ্যে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দীন। তিনি জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-৬ আসন থেকে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।
এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, যিনি ঢাকা-১১ আসনে প্রার্থী ছিলেন।
দলের একটি সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের পুনরায় মনোনয়ন না দেওয়ার বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা রয়েছে। এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দুই সিটিতেই কয়েকজনের নাম আলোচনায় আছে এবং প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত। শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
ঢাকা মহানগর উত্তরের মজলিশে শুরার এক সদস্য বলেন, সেলিম উদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং সক্রিয় থাকায় মনোনয়নের ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকতে পারেন।
অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেও জামায়াতের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলছে। আলোচনায় রয়েছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম, সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী আব্দুল মান্নান।
রূপালী বাংলাদেশ