
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দীর্ঘ দুই মাস বন্দিজীবনের অবসান ঘটিয়ে কারামুক্ত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি। জেল থেকে বেরিয়েই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো রক্তচক্ষু বা মিথ্যা মামলা তাকে দমাতে পারবে না; বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি আগের চেয়েও বেশি সংকল্পবদ্ধ। ইমি বলেন, আমি অন্যায় করিনি, রাষ্ট্র আমার সঙ্গে অন্যায় করেছে।
যেভাবে কারাগারে গেলেন ইমি
ঘটনার সূত্রপাত গত ৭ মার্চ। সেদিন দুপুরে শহীদুল্লাহ হলের সামনে থেকে শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদকে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে শাহবাগে কর্মসূচি পালন করছিলেন ইমি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহবাগ থানার সামনে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো হচ্ছিল। সেই রাতে সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়। ইমির মতে, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ জাতীয় গৌরবের প্রতীক এবং এটি বাজিয়ে প্রতিবাদ করা কোনো অপরাধ হতে পারে না। পরদিন ৮ মার্চ পুলিশ তাকেসহ আরও দুজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়। প্রায় দুই মাস কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে থাকার পর গত ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি এবং ৭ মে মুক্তি লাভ করেন।
হামলার অভিযোগ ও পুলিশের ভূমিকা
কারামুক্তির পর এক সাক্ষাৎকারে ইমি দাবি করেন, শাহবাগের ওই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ ও ডাকসুর সাবেক কিছু নেতার নেতৃত্বে বর্বর হামলা চালানো হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, তাদের ব্যবহৃত রিকশার ব্যাটারি ছিনতাই ও ভাঙচুর করা হয়। হামলায় তার সহযোদ্ধা মামুন রক্তাক্ত হন। মামুনকে ‘ছাত্রলীগ’ হিসেবে প্রচার করার সমালোচনা করে ইমি জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পরপরই মামুন ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে এই ছাত্রনেত্রী বলেন, যারা তাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, তারাই আবার তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার কাল্পনিক অভিযোগে মামলা সাজিয়েছে।
আপসহীন লড়াইয়ের অঙ্গীকার
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন দাবি করে ইমি স্পষ্ট করে বলেন যে, ন্যায্য প্রতিবাদের জন্য তাকে যদি কোনো তকমা দেওয়া হয়, তবে তিনি তাতে বিচলিত নন। তিনি বলেন, "রাজপথের মেয়ে হিসেবে সময়ের প্রয়োজনে আমি বারবার রাজপথেই ফিরে আসব।"
কারাগারে থাকাকালীন বাবার অসুস্থতা ও পরিবারের দুশ্চিন্তার কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হলেও ইমি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন যে, তিনি কোনো অন্যায় করেননি, বরং রাষ্ট্রই তার সঙ্গে অবিচার করেছে। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি হামলাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করতে তিনি রাজপথ ও আদালত—উভয় ক্ষেত্রেই সক্রিয় থাকবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।