
দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতে আবারও আইনি লড়াই জোরদার করেছে বিএনপি। ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দলটির ২ হাজার ২৭৬ জন নেতাকর্মীকে অপহরণের পর গুম এবং 'ক্রসফায়ার'-এর নামে হত্যার অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পুনরায় আবেদন দাখিল করেছে দলটি।
ট্রাইব্যুনালে পুনরায় অভিযোগ দাখিল
সোমবার (১১ মে) বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং গুম, খুন ও মামলা বিষয়ক সমন্বয়ক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন খান ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের দপ্তরে এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেন। এই অভিযোগে দীর্ঘ ১৬ বছরে ঘটে যাওয়া অগণিত নিখোঁজ ও হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
তালিকায় ইলিয়াস আলীসহ দুই সহস্রাধিক নাম
দাখিলকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আওয়ামী শাসনামলে বিএনপির অসংখ্য শীর্ষ ও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। এই তালিকায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে নিখোঁজ হওয়া প্রভাবশালী নেতা ইলিয়াস আলীর নাম। অভিযোগের মূল লক্ষ্য হলো—এই দীর্ঘ সময়ে পরিকল্পিতভাবে চালানো রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের একটি পূর্ণাঙ্গ বিচারিক তদন্ত নিশ্চিত করা।
কেন এই পুনরায় আবেদন?
উল্লেখ্য যে, এর আগে ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি বিএনপি একই বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দাখিল করেছিল। তবে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পূর্ববর্তী তদন্তে আশানুরূপ কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। মূলত তদন্ত প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতেই দলটি পুনরায় ট্রাইব্যুনালের শরণাপন্ন হয়েছে।
কাঠগড়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
নতুন এই আবেদনে সরাসরি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ ও মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। বিএনপির দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার অংশ হিসেবে পরিকল্পিতভাবে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়েছে।
দ্রুত তদন্তের দাবি
বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে তারা এই আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।