
মেধাবী কনটেন্ট ক্রিয়েটর, তরুণ চিত্রনাট্যকার ও প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের অকাল বিদায়ে যখন পুরো দেশ স্তব্ধ ও শোকাতুর, ঠিক তখনই তাঁর চলে যাওয়াকে ঘিরে নেট দুনিয়ায় একশ্রেণীর মানুষের চরম অমানবিক ও কুৎসিত উদযাপনের ঘটনা সামনে এসেছে। গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা এই বর্বর ও বিকৃত মানসিকতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কঠোর সমালোচনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার।
আজ শনিবার (১৬ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে দেওয়া এক তাৎক্ষণিক বিবৃতিতে তিনি এই হীন আচরণের নেপথ্যে আওয়ামী লীগের একচোখা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সরাসরি দায়ী করেন।
‘আওয়ামী লীগের বাইবেল দলই’: ফেসবুকে কড়া স্ট্যাটাস
রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আদর্শ ও তাদের মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আগেও বলেছি, আওয়ামীলীগের স্পেসিফিক কোনো ধর্ম নেই। দলই তাদের ধর্ম, রাজনৈতিক নবী মুজিব, কেবলা ধানমন্ডি-৩২, আর পবিত্র নগরী গোপালগঞ্জ। এর বাইরে তাদের কোনো মানবতা কাজ করে না।’
ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত কণ্ঠস্বর কারিনা কায়সারের মৃত্যুর পর একটি বিশেষ মহলের এমন পৈশাচিক প্রতিক্রিয়াকে ইঙ্গিত করে তিনি তাঁর পোস্টে আরও যোগ করেন, ‘জুলাইয়ের পরিচিত মুখ কারিনা কায়সার আপুর মৃত্যুতে যেভাবে উল্লাস প্রকাশ করা হচ্ছে সেটাই তার প্রমাণ। আর এই আওয়ামীলীগ মাশরাফি-সাকিবদেরই আওয়ামিলীগ।’
চেন্নাইয়ে জীবনাবসান ও নেটিজেনদের নিষ্ঠুরতা
উল্লেখ্য, যকৃতের (লিভার) মারাত্মক জটিলতায় ভুগে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গতকাল শুক্রবার (১৫ মে) ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন কারিনা কায়সার।
পারিবারিক বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, কারিনা যখন হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে থেকে জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোর মুখোমুখি হচ্ছিলেন এবং তাঁর স্বজনেরা চরম মানসিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু মানুষের অসংবেদনশীল ও নিষ্ঠুর মন্তব্য থামেনি। এমনকি কেউ কেউ তাঁর এই মরণব্যাধিকে ‘ঈশ্বরের শাস্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে উপহাস করতেও কুণ্ঠাবোধ করেনি।
সচেতন মহলের মতে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ও জুলাই বিপ্লবের পক্ষে অনলাইনে সর্বদা সোচ্চার থাকা কারিনাকে নিয়ে এই ধরনের হিংসাত্মক ট্রোলিং দেশের রুগ্ন ও বিষাক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।