
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান আহম্মেদ প্রধান রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে আটটার পর থেকে ১৯ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার কোনো হদিস মেলাতে পারেনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায় করার পর থেকেই জিসান প্রধান নিখোঁজ রয়েছেন। তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে সর্বশেষ রাত ৮টা ২৯ মিনিটে সক্রিয় থাকার প্রমাণ মিলেছে। এরপর থেকেই তার মুঠোফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল বন্ধ থাকায় দলীয় নেতাকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা তার সাথে কোনো ধরণের যোগাযোগ করতে পারছেন না।
নিখোঁজের পর সম্ভাব্য সকল আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও জিসানের কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তার বড় ভাই বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জিসান প্রধানের বড় ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহাম্মেদ ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, "গতকাল রাতে বাড়িতে আসার কথা ছিল। কিন্তু এশার নামাজের পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাই। তার ফেইসবুক ডিঅ্যাক্টিভ করা হয়েছে। আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। প্রশাসন এখন পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ দিতে পারিনি।"
এ বিষয়ে দাউদকান্দি উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান আরিফ জানান, জিসান গত কাল ঢাকা থেকে দাউদকান্দি পৌঁছান এবং স্থানীয় মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেন। এরপর উপজেলার বিরবাগগোয়ালী গ্রামে অবস্থিত নিজের পৈতৃক বাড়িতে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। নিখোঁজ এই নেতার সন্ধানে তারা প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা দাবি করেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. সামছুল আলম প্রধান আজ শুক্রবার (১২ জুন) জানান, নিখোঁজের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সেই সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে ছাত্রশিবিরের একজন কেন্দ্রীয় নেতা দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা পরও কেন উদ্ধার বা সন্ধানহীন, সাংবাদিকদের এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি— এই কথা বলেই তিনি ফোন লাইনটি কেটে দেন।