
ইসলামী ব্যাংকে ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছাড়া অন্য ধর্মের কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয় না—সরকারদলীয় সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এমন অভিযোগের জবাবে তা নাকচ করেছেন সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ ও শাহজাহান চৌধুরী। তারা বলেছেন, ইসলামী ব্যাংকে অন্য ধর্মাবলম্বীদের চাকরির ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই এবং বাস্তবেও বিভিন্ন ধর্মের মানুষ সেখানে কর্মরত রয়েছেন।
শনিবার (২৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১৬তম দিনের অনির্ধারিত আলোচনায় এ বিষয়টি উঠে আসে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যের পর ফ্লোর নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং এখন শুধু মুসলিমদের মধ্যেই নয়, বিশ্বজুড়ে অমুসলিমদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ইসলামী ব্যাংকে চাকরির ক্ষেত্রে কোনো ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা নেই বলেই তার ধারণা।
তিনি বলেন, কোনো ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ চাইলে নিজস্ব নীতিমালা গ্রহণ করতে পারে। তবে চাকরির ক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক কোনো বাধা নেই। যদিও পরিচালনা পর্ষদে ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
পার্থের বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, সংসদে অনুমাননির্ভর বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা বা নিয়োগনীতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই সঠিক তথ্য দিতে পারেন। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় এটি সাম্প্রদায়িক ইস্যু হিসেবে উত্থাপন না করারও আহ্বান জানান তিনি।
পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষই চাকরি করেছেন এবং এখনও করছেন। তার নিজের এলাকাতেও হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক ব্যক্তি ইসলামী ব্যাংকে চাকরি করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদে এ ইস্যুতে কিছু সময় আলোচনা চললেও পরে অন্যান্য বিষয়ে অধিবেশনের কার্যক্রম এগিয়ে যায়।