
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু ভবনে একটি হালকা বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত এবং মাটিতে থাকা অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। বিরল এ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৭ জুন) এক বিবৃতিতে বেইজিংয়ের চাওইয়াং জেলা প্রশাসন জানায়, শুক্রবার বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে একটি এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট, দুই আসনের হালকা স্পোর্টস বিমান পূর্ব তৃতীয় রিং রোডের কাছে উড্ডয়নের সময় একটি বহুতল ভবনের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিমানে কেবল পাইলটই ছিলেন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
দুর্ঘটনায় আহত ১৩ জন বিমানের আরোহী ছিলেন না। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যে ভবনে বিমানটি আঘাত হানে সেটি ৫২৮ মিটার উঁচু ‘সিআইটিআইসি টাওয়ার’, যা ‘চায়না জুন’ নামেও পরিচিত। বেইজিংয়ের কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক এলাকায় অবস্থিত ভবনটির বাইরের অংশে দুটি বড় কাচের প্যানেল ভেঙে একটি বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি অস্থায়ীভাবে ঢেকে রাখা হয়।
ঘটনাস্থলটি নিষিদ্ধ নগরী থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে এবং চীনের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের কার্যালয় অবস্থিত ঝংনানহাই কমপ্লেক্সেরও কাছাকাছি।
রয়টার্সের পর্যালোচনা করা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ‘বি-১২পিপি’ নিবন্ধন নম্বরের বিমানটি শুক্রবার বিকেলে বেইজিংয়ের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে উড্ডয়ন করে। পরে এটি শহরের কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হয় এবং স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে চাওইয়াং জেলায় পৌঁছানোর পর এর অবস্থান শনাক্তকরণ বন্ধ হয়ে যায়।
তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি ছিল চীনের সানওয়ার্ড নির্মিত ‘অরোরা এসএ৬০এল’ মডেলের দুই আসনের হালকা স্পোর্টস বিমান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে দুর্ঘটনাকবলিত বিমানের ধ্বংসাবশেষ ও নিবন্ধন নম্বর দেখা গেলেও সেগুলোর সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, বিমানটি বেইজিংভিত্তিক ডংশি শুয়াংইয়ে জেনারেল অ্যাভিয়েশনের মালিকানাধীন হতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মী রয়টার্সকে জানান, বিমানটি তাদের ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।