
জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে বিরোধী দলের নাটকীয় ওয়াকআউটের পর এবার রাজপথ ও সংসদ—উভয় ফ্রন্টেই যুগপৎ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। গণভোটের রায় কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দেন তিনি।
আজ সোমবার রাতে সংসদ ভবন চত্বরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলটির প্রধান এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। দলের পক্ষ থেকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমান সাংবিধানিক জটিলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী তাহলে কোনো সরকার নেই, বিরোধীদলও নেই।
গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ব্রিফিংকালে বিগত বছরগুলোর নির্বাচনী ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন,
‘২০১৪ সালের ভোট ছিল একেবারে ভোটারবিহীন, ২০২৪–এর ইলেকশন ছিল ডামি। এরপর বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচন হলো, সবাই দুটো করে ভোট দিয়েছেন। সরকারও জনগণকে হ্যাঁ–ভোট দিতে বলল। দুইটা শপথ নেওয়ার কথা ছিল। আমরা বিরোধী দল দুইটাই শপথ নিয়েছি, কিন্তু সরকার নেয়নি। জাতিকে তারা ওয়াদা দিয়েছিল।’
আইনি ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন,
‘সংবিধানে যদি গণভোটের প্রভিশন না থাকে, তবে ২০২৬–এর নির্বাচনেরও প্রভিশন নাই। সংবিধান অনুযায়ী তাহলে কোনো সরকার নেই, বিরোধীদলও নেই। জনগণের অভিপ্রায়ের এক অংশ আমরা মানবেন, আরেক অংশ মানবেন না?’
নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে শফিকুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন,
‘আমাদের অবস্থানে আমরা অটল। এ দেশ সবার। দাবি আদায় না হলে আমাদের আন্দোলন চলবে। আজকের এই ওয়াকআউট তারই ফল।’
এর আগে, সোমবারের সংসদ অধিবেশনে সরকারি দলের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব তোলা হয়। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং প্রতিবাদস্বরূপ সংসদ অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।
অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ার পর সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বিরোধী দলের এই পদক্ষেপকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন,
‘ওয়াকআউট বিরোধী দলের অধিকার। বিরোধী দলের একজন বাদে অনেকেই নতুন। নতুন সদস্যদের সবকিছু বুঝতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।’
নতুন গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটির পরিধি ও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে চিফ হুইপ আরও বলেন,
‘এই কমিটি কেবল মাত্র সুপারিশ দেবে। সকলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধনের কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে সরকারের। আমরা আলোচনার দরজা বন্ধ করব না। আমাদের এত দিনের ফসল আমরা বৃথা যেতে দেব না।’