
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী কৌশল নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। কারণ, একই সিটিতে এর আগেই দলের মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই সিটিতে তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার কৌশল নিয়েছে জামায়াত। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ২২ জুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে সাদিক কায়েমের প্রার্থিতায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১৩ জুলাই তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দায়িত্বও ছাড়েন।
অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে একক প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে এনসিপি। গত ২৯ মার্চ দলটি পাঁচটি সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। সেখানে ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী করা হয় আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে।
এনসিপির একাধিক সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে এখনো কোনো জোটগত সমঝোতা হয়নি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ চললেও তফসিল ঘোষণার আগে আসন ভাগাভাগি বা প্রার্থী প্রত্যাহার নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেছেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বা আগে যদি জাতীয়ভাবে মনে হয় যে সমঝোতা হলে সরকারি দলের বাইরে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে বিরোধী দলের প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রত্যেক দলই সাংগঠনিক অবস্থা শক্তিশালী করা এবং প্রার্থীদের অবস্থান শক্তিশালী করার দিকেই মনোযোগী।’
গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে অংশ নেয় জামায়াত ও এনসিপি। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দুই দলের পৃথক প্রার্থী সামনে আসায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে তাদের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর দুই দল যৌথ প্রার্থী দেবে, নাকি আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, সেটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।