
শ্রমিক তৌফিক হত্যার ঘটনায় কোনো প্রমাণ ছাড়াই বিএনপি সরকারকে দায়ী করার অভিযোগ তুলে জামায়াত নেতা সাদিক কায়েমের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান।
বুধবার (৪ নভেম্বর) নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।
পোস্টে রাশেদ খান লেখেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে গোপন সংশ্লিষ্টতা ছিল এমন ব্যক্তি এবং বর্তমানে জামায়াতের নেতা সাদিক কায়েম অভিযোগ করেছেন, বিএনপি সরকার শ্রমিক তৌফিককে হত্যা করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তৌফিক হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিক হত্যার দায় স্বীকার করে সরকারকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘শ্রমিক মারার সরকার, আর নয় দরকার’ স্লোগানও উল্লেখ করেন।
সাদিক কায়েমের অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাশেদ খান লেখেন, বিএনপি সরকার তৌফিককে হত্যা করেছে—এমন দাবির পক্ষে তাঁর কাছে কোনো প্রমাণ আছে কি না, থাকলে তা প্রকাশ করছেন না কেন? ছাত্রলীগের প্রতি তাঁর যৌবনের প্রথম প্রেম এখনো রয়ে গেছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
রাশেদ খানের দাবি, সাদিক কায়েম কি বিষয়টি দেখতে পাচ্ছেন না যে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, হামলা ও ভাঙচুরের ভিডিও ধারণ করায় শ্রমিকের পরিচয় দেওয়া একদল বিক্ষুব্ধ দুর্বৃত্ত তৌফিককে হত্যা করেছে। এরপরও তিনি শ্রমিক হত্যার দায়ে বিএনপি সরকারের পদত্যাগ দাবি করছেন বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খান।
তিনি আরও লেখেন, আওয়ামী লীগ কখনো ক্ষমতায় ফিরলে সাদিক কায়েমের মতো ব্যক্তিরা আবারও ছাত্রলীগে যোগ দেবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলনের সময়কার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, তখন সাদিক কায়েম ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে সাদ্দামের নেতৃত্বে মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। এ ঘটনা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ ধরনের ব্যক্তিরা কেমন বিপ্লবী। তাঁদের তিনি ‘সুসময়ের কৌশলী বিপ্লবী’ বলে আখ্যা দেন।
রাশেদ খান আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে লেখার কারণ হলো, তৌফিক হত্যার দায় বিএনপি সরকারের ওপর চাপিয়ে শ্রমিক পরিচয় ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের তাণ্ডব আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে তিনি মনে করেন। এ কারণে দেশের স্বার্থে অবস্থান নেওয়া সবাইকে এ ধরনের ‘ভুয়া বয়ান’ সম্পর্কে সতর্ক ও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, সরকার যথাযথ সিদ্ধান্ত নিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হওয়ায় একটি পক্ষ অসন্তুষ্ট হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ওই পক্ষ ভেবেছিল, শ্রমিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা যাবে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা সফল না হওয়ায় তারা দিশাহারা হয়ে পড়েছে।