
যৌন হয়রানির অভিযোগে তদন্ত ও শাস্তির পরও সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে তিনটি দাবি উত্থাপন করেছেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম।
তিনি বলেছেন, তদন্তে প্রমাণ পাওয়ার পরও যাকে দায়ী করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে দেওয়া শাস্তি যথেষ্ট নয় এবং পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচার চান।
জাহানারা এর আগে জাতীয় দলে খেলার সময় সাবেক নারী নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন।
বিষয়টি নিয়ে পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে, যেখানে আইন বিশেষজ্ঞ ও নারী অধিকারকর্মীরাও ছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদনে চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটিতে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
এর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ক্রিকেটের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ক্রীড়া মহলে আলোচনা তৈরি হয়, যেখানে অনেকেই এটিকে অসম্পূর্ণ শাস্তি হিসেবে দেখছেন।
এ ঘটনার পর বোর্ড কাঠামোতেও পরিবর্তন আসে। নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠিত হয় এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পর্যায়ে নেতৃত্বেও পরিবর্তন দেখা যায়।
এই প্রেক্ষাপটে জাহানারা ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনটি দাবি জানান।
তিনি বলেন, ‘আমি যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি তার তুলনায় পাওয়া শাস্তি যথেষ্ট নয়। আমি ন্যায়বিচার চাই।’
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, শুধু একজন ব্যক্তি নয়, তার সঙ্গে যুক্ত একটি চক্র দীর্ঘ সময় ধরে তাকে মানসিকভাবে হয়রানি করেছে এবং সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে।
জাহানারা তার প্রথম দাবিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
দ্বিতীয় দাবিতে তিনি বলেন, যেসব নারী ক্রিকেটার বা স্টাফ একই ধরনের অভিযোগ সামনে এনেছেন, তাদের অভিযোগও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করতে হবে।
তৃতীয় দাবিতে তিনি ক্রীড়াঙ্গনে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর সেফগার্ডিং নীতি চালুর আহ্বান জানান।
তার মতে, এমন নীতি থাকলে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে এবং খেলাধুলার পরিবেশ আরও নিরাপদ হবে।
তিনি আরও বলেন, ক্রিকেটে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অভিযোগগুলোকে শুধু শাস্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে কাঠামোগত পরিবর্তনের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।