
রিংয়ের আলো ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাওয়ার আগেই কখনো কখনো সবচেয়ে বড় গল্পটা জন্ম নেয়। রেসলম্যানিয়া ৪২-এর রাতেও তেমনই এক দৃশ্য দেখা যায় যখন পরাজয়ের পর রিংয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিজের গিয়ার খুলে রাখেন 'দ্য বীস্ট'খ্যাত ব্রক লেসনার। মুহূর্তটা দেখে মনে হয়, তিনি হয়তো রেসলিংকে বিদায় জানালেন।
নবাগত কিন্তু দুর্দান্ত প্রতিপক্ষ ওবা ফেমির কাছে সহজ হারের পর লেসনার আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। দীর্ঘদিনের সঙ্গী পল হেইম্যানকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। চারপাশে দর্শকদের ধন্যবাদ ধ্বনি। সব মিলিয়ে দৃশ্যটা একেবারে শেষ বিদায়ের মতো মনে হয়।
কিন্তু রেসলিংয়ের গল্পে শেষ বলে কিছু খুব কমই থাকে!
কারণ এর পেছনে শুরু হয়েছে আরেকটি বড় গল্পের ইঙ্গিত। সেখানে কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন গুনথার। তিনি এমন এক রেসলার, যিনি মানুষের ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার জন্যই পরিচিত হয়ে উঠেছেন। এর আগে তিনি গোল্ডবার্গ, জন সিনা এবং এ জে স্টাইলসের মতো বড় তারকাদের বিদায়ের পথে ঠেলে দিয়েছেন।
উপরন্তু সেথ 'ফ্রিকিং' রোলিন্সকে ঘিরে পল হেইম্যানের সঙ্গে একটি টানটান সম্পর্ক তৈরি হয়েছে গুনথারের। হেইম্যানের সঙ্গে যে দেনা-পাওনার গল্প চলছে, তা থেকেই নতুন নাটক তৈরি হতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, সেই গল্পের সবচেয়ে বড় পরিণতি হতে পারে ব্রক লেসনারের সঙ্গে একটি শেষ ম্যাচ।
রেসলিং দুনিয়ায় অবসর অনেক সময় স্থায়ী হয় না। বড় তারকারা প্রায়ই আবার ফিরে আসেন। শেষবারের মতো রিংয়ে দাঁড়ানোর জন্য, নিজের গল্পটা নিজের মতো করে শেষ করার জন্য।
লেসনারের ক্ষেত্রেও তাই অনেকে মনে করছেন, যা দেখা গেছে তা পুরো বিদায় নয়, বরং একটি নাটকীয় বিরতি। দর্শকদের আবেগ, গল্পের চাপ আর ভবিষ্যতের পরিকল্পনা মিলিয়ে এখানে নতুন কিছু অপেক্ষা করছে।
সব মিলিয়ে রেসলম্যানিয়া ৪২-এর সেই রাত হয়তো শেষ নয়। বরং বড় একটি গল্পের মাঝপথের দৃশ্য। রিংয়ের আলো আপাতত নিভে গেছে, কিন্তু পরের দৃশ্য যে আবার জ্বলবে, সেই ইঙ্গিত এখনই স্পষ্ট।