
দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের পর এবার খোদ বিসিবি প্রধান তামিম ইকবালকে লক্ষ্য করে গুরুতর ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন সদ্য বিদায়ী সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ম্যাচ পাতানো নিয়ে তার কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে।
সাবেক সভাপতি বুলবুল তার বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, অনিয়ম বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ায় একটি বিশেষ পক্ষ তার ওপর অসন্তুষ্ট ছিল। তিনি বলেন, ‘আমার প্রতি তাদের অন্যতম রাগ, দুটো বড় বড় রাগের মধ্যে বড় একটি ছিল, এবার কিন্তু বিপিএলে ৮২% কমেছে ফিক্সিং বা জুয়া, এটা তাদের রাগ। আরেকটা রাগ আমি কেন ঢাকার ক্রিকেটটা ঢাকার বাইরে নিলাম।’
ডিপিএলে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ
বুলবুলের দাবি অনুযায়ী, গত বছরের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে দুটি ক্লাবের মধ্যকার একটি ম্যাচে অসাধু উপায় অবলম্বন করা হয়েছিল। তিনি সরাসরি বর্তমান বিসিবি প্রধান তামিম ইকবাল এবং খালেদ মাহমুদ সুজনের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ‘ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ফিক্স হয় কিনা আমি জানি না। তবে আমার কাছে একটা রিপোর্ট ছিল যেটা সিইওর অফিসে আছে। গত বছরের ডিপিএলে দুটো ক্লাব একটা হচ্ছে গুলশান ক্রিকেট ক্লাব, যার কাউন্সিলর তামিম ইকবাল। আরেকটি হচ্ছে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব, যার পেছনে কাজ করেন খালেদ মাহমুদ সুজন। তাদের একটা ম্যাচ ফিক্স করা হয়েছিল, যেটা গণমাধ্যমে এসেছিল, এটার তদন্ত হয়েছে, এটার তদন্ত চলেছে।’
তথ্যে গরমিল: কাউন্সিলর পদে তামিমের প্রকৃত অবস্থান
সাবেক সভাপতির বক্তব্যে তামিম ইকবালের কাউন্সিলরশিপ নিয়ে তথ্যের কিছুটা অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। বুলবুল তাকে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের কাউন্সিলর হিসেবে উল্লেখ করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। নথিপত্র অনুযায়ী, গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের বর্তমান কাউন্সিলর হলেন মিজানুর রহমান।
অন্যদিকে, তামিম ইকবাল সর্বশেষ বিসিবি নির্বাচনে কাউন্সিলর হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন ‘ওল্ড ডিওএইচএস’ ক্লাবের। উল্লেখ্য যে, এই ক্লাবটি বর্তমানে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে অংশগ্রহণ করছে।
সদ্য সাবেক সভাপতির এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের পর দেশের ক্রিকেট পাড়ায় নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিসিবির প্রধান কার্যালয়ে থাকা সেই তদন্ত রিপোর্টের ভবিষ্যৎ কী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।