
খেলোয়াড়, কোচ ও প্রধান নির্বাচকের পর এবার দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিজের নতুন ইনিংস শুরু করতে যাচ্ছেন সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। কোনো প্রকার নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া ছাড়াই, অর্থাৎ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
আগামী ৭ জুন বহুল প্রতীক্ষিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ব্যালট পেপারে সিল পড়ার আগেই চূড়ান্ত হয়ে গেছে পর্ষদের বেশ কয়েকটি পদের ভাগ্য। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ সোমবার (২৫ মে) দুপুরে ৩ জন প্রার্থী নিজেদের মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেন। এর ফলে কোনো ধরনের ভোটযুদ্ধ ছাড়াই ৮ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সরাসরি পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।
দুপুরে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর বিসিবির নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ক্যাটাগরি-১ (বিভাগ ও জেলা) এর অধীনে এখন মাত্র দুটি বিভাগে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে এবারের নির্বাচনের মূল আকর্ষণ ও স্নায়ুযুদ্ধ জমবে ক্যাটাগরি-২ অর্থাৎ ঐতিহ্যবাহী ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ক্যাটাগরিতে। এই ক্যাটাগরিতে ১২টি পরিচালক পদের বিপরীতে ভোটের মাঠে লড়বেন ১৬ জন হেভিওয়েট প্রার্থী। বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির প্রধান ও সাবেক সফল অধিনায়ক তামিম ইকবালও এই ক্লাব গ্রুপ থেকেই ডিরেক্টর হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ ক্ষণে ক্যাটাগরি-১-এর চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে নিজের নাম সরিয়ে নেন ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর শরীফুল ইসলাম (অপু)। তাঁর এই নাটকীয় সরে দাঁড়ানোর কারণে চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে বিনা বাধায় পরিচালক নির্বাচিত হন সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু এবং লক্ষ্মীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার মঈন উদ্দিন চৌধুরী।
এছাড়া এই ক্যাটাগরি থেকে একই নিয়মে বিনা ভোটে নির্বাচিত অন্য পরিচালকেরা হলেন— ঢাকা বিভাগ থেকে সাইদ বিন জামান ও এস এম আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, সিলেট বিভাগ থেকে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, রাজশাহী বিভাগ থেকে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং রংপুর বিভাগ থেকে মির্জা ফয়সাল আমীন।
অন্যদিকে, ক্যাটাগরি-৩ (পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সাবেক অধিনায়ক ও সংস্থা) থেকে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে একক মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর ও অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠক সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর। এর আগে ২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো বিসিবির ডিরেক্টর হওয়া এই সংগঠক নাজমুল হাসান পাপনের প্রথম মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
বর্তমান সমীকরণ অনুযায়ী, জেলা ও বিভাগীয় গ্রুপে এখন কেবল খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। খুলনা বিভাগের দুটি পরিচালক পদের জন্য ভোটের মাঠে টিকে আছেন তিনজন প্রার্থী— মো. শফিকুল আলম, শান্তনু ইসলাম ও মো. আব্দুছ সালাম। অন্যদিকে, বরিশাল বিভাগের একমাত্র পদের জন্য সরাসরি মুখোমুখি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন মো. মিজানুর রহমান এবং মো. মুনতাসির আলম চৌধুরী।
সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ ক্যাটাগরি-২ তথা ক্লাব কাউন্সিলরদের এই গ্রুপে ১২টি চেয়ারের বিপরীতে এখনো সমানতালে মাঠে আছেন ১৬ জন প্রার্থী। এই ক্যাটাগরির চূড়ান্ত প্রার্থীরা হলেন: ফাহিম সিনহা (আবাহনী লিমিটেড), মাসুদুজ্জামান (মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব), আসিফ রব্বানী (শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব), ফৈয়াজুর রহমান (উত্তরা ক্রিকেট ক্লাব), ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক (বসুন্ধরা রাইডার্স), তামিম ইকবাল খান (ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টস ক্লাব), মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন (ট্রাই স্টেট ক্রিকেটার্স), মির্জা ইয়াসির আব্বাস (আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব), ইসরাফিল খসরু (এক্সিউম ক্রিকেটার্স), মো. রফিকুল ইসলাম বাবু (ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্র), অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম (ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব), শানিয়ান তানিম নাভিন (ঢাকা মেরিনার ইয়াংস ক্লাব), সাঈদ ইব্রাহীম আহমেদ (ফেয়ার ফাইটার্স স্পোর্টিং ক্লাব), সৈয়দ বোরহানুল হোসেন (তেজগাঁও ক্রিকেট একাডেমি), সাকিব আহমেদ সালাম (পূর্বাচল স্পোর্টিং ক্লাব) এবং মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ (কাঁঠালবাগান গ্রীন ক্রিসেন্ট ক্লাব)।