
টানটান উত্তেজনা, শ্বাসরুদ্ধকর ৯০ মিনিট আর ইনজুরি টাইমের নাটকীয়তা—সব মিলিয়ে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সেমিফাইনালে নেপালকে ২-১ গোল ব্যবধানে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় থাকার পর যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে (৯০+৩ মিনিট) সাগরিকার জয়সূচক গোলে উল্লাসে মাতে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
এর আগে বাংলাদেশ যে দুইবার ফাইনাল খেলেছিল, দুবারই এই নেপালকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এবারও নেপাল বধের মাধ্যমে হ্যাটট্রিক ফাইনালে পা রাখল মারিয়া মান্দারা।
গ্রুপ রানারআপ হয়ে সেমিফাইনালে আসা বাংলাদেশ আজ ম্যাচের শুরুতেই কিছুটা ছন্নছাড়া ফুটবল খেলে। সেই সুযোগে ম্যাচের ২৩তম মিনিটে দীপা শাহির কর্নার কিক থেকে গোল করে নেপালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন গীতা রানি। ৩৬তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারত, তবে নেপালের প্রীতি রাজের দূরপাল্লার শট গোলরক্ষক মিলি আক্তারের হাতে লেগে পোস্টে প্রতিহত হলে রক্ষা পায় বাংলাদেশ।
পিছিয়ে পড়ার পর খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের শেষ দিকে বেশ কয়েকটি আক্রমণের ধারাবাহিকতায় কর্নার থেকে সরাসরি চোখ ধাঁধানো শটে গোল করে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান উইঙ্গার ঋতুপর্ণা চাকমা। এই সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুদল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও ভাগ্য সহায় হয় বাংলাদেশের। নেপালি ফরোয়ার্ড রেখা বাংলাদেশের গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে শট নিলেও বল গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশও। তবে স্ট্রাইকার সাগরিকার দুর্দান্ত শটটি নেপালের গোলরক্ষক সুব্বা লাফিয়ে দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দিলে ম্যাচটি টাইব্রেকারের দিকেই যাচ্ছিল।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ ব্যবধানে শেষ হওয়ার পর ম্যাচ গড়ায় যোগ করা অতিরিক্ত ৬ মিনিটে। ইনজুরি টাইমের তিন মিনিট পার হওয়ার মুখে ডানপ্রান্ত থেকে দুর্দান্ত এক আক্রমণ তৈরি করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। তাঁর নিখুঁত পাস থেকে ডি-বক্সে বল পেয়ে নেপালের জালে জড়াতে ভুল করেননি টুর্নামেন্টের নতুন সেনসেশন সাগরিকা।
সাগরিকার এই শেষ মুহূর্তের গোলেই ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। এই হারের ফলে গ্রুপ পর্বে ভুটান ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে উড়তে থাকা নেপালকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো। আর গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছে হেরে কিছুটা ব্যাকফুটে যাওয়া বাংলাদেশ আবারও প্রমাণ করল—কেন তারা দক্ষিণ এশিয়ার সেরা।