
সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় যোগ করেছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ে বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচে অন্তত দুটি করে গোল করার নজির গড়ে ৭২ বছর ধরে অক্ষত থাকা উরুগুয়ের রেকর্ড ভেঙেছে লিওনেল স্কালোনির দল।
আর্জেন্টিনার এই গোলধারার সূচনা হয়েছিল ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। ওই আসরের গ্রুপ পর্বে ২৬ নভেম্বর মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ের পর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপ ম্যাচেই অন্তত দুইবার প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
কাতার বিশ্বকাপে এরপর পোল্যান্ডকে ২-০, অস্ট্রেলিয়াকে ২-১, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২, ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ এবং ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ৩-৩ গোলের ম্যাচেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল।
২০২৬ বিশ্বকাপেও একই ছন্দ ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়াকে ৩-০, অস্ট্রিয়াকে ২-০ এবং জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারায় লিওনেল মেসির দল।
এরপর নকআউট পর্বে শেষ বত্রিশে কেপ ভার্দেকে ৩-২, শেষ ষোলোতে মিসরকে ৩-২ এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে টানা ১২ ম্যাচে অন্তত দুটি গোল করার নতুন বিশ্বকাপ রেকর্ড গড়ে আর্জেন্টিনা।
এর আগে এই কীর্তির মালিক ছিল উরুগুয়ে। ১৯৩০, ১৯৫০ ও ১৯৫৪—এই তিনটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করার নজির গড়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি।
উরুগুয়ের সেই ধারার শুরু হয়েছিল ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে রোমানিয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ের মাধ্যমে। এরপর যুগোস্লাভিয়া, আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, স্পেন, সুইডেন, ব্রাজিল, চেকোস্লোভাকিয়া, স্কটল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও প্রতিটি ম্যাচে অন্তত দুটি করে গোল করেছিল তারা।
তবে ১৯৫৪ সালের ৩০ জুন সেমিফাইনালে হাঙ্গেরির ‘ম্যাজিক্যাল ম্যাগিয়ার্স’দের কাছে ৪-২ গোলে হেরে সেই ধারাবাহিকতার ইতি ঘটে। একই সঙ্গে সেটিই ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে উরুগুয়ের প্রথম পরাজয়।