
বিশ্বকাপ ফুটবলের সোনালী ট্রফি কার হাতে উঠছে—লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা নাকি তরুণ তুর্কিদের স্পেনের হাতে? এই মহাউত্তেজনার পারদ চড়িয়ে আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বসতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল। আর এই শ্বাসরুদ্ধকর শিরোপা যুদ্ধ মাঠে বসে উপভোগ করতে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকবেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ম্যাচ শেষে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বজয়ী দলের অধিনায়কের হাতে পরম আরাধ্য বিশ্বকাপ ট্রফিটি তুলে দেবেন ট্রাম্প।
উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ সমন্বয়ে আয়োজিত এবারের আসরে ফাইনালের আগে ইতিমধ্যে ১০২টি ম্যাচ মাঠ গড়িয়েছে। তবে পূর্ববর্তী ম্যাচগুলোর একটিতেও সশরীরে স্টেডিয়ামে দেখা যায়নি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। অবশেষে টুর্নামেন্টের সফল সমাপ্তি টানতে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই ম্যাচে তাঁর সশরীরে হাজির থাকার খবরটি নিশ্চিত করল ওয়াশিংটন।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন:
"আমরা রোববারের ফাইনালের অপেক্ষায় আছি। প্রেসিডেন্টও সেখানে উপস্থিত থাকতে মুখিয়ে আছেন।"
বালোগান বিতর্ক ও ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ
মাঠে বসে খেলা না দেখলেও বিশ্বকাপ চলাকালীন বিভিন্ন ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরোক্ষ উপস্থিতি ক্রীড়াঙ্গনে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। বিশেষ করে নকআউট পর্বের শেষ ষোলোর লড়াইয়ের আগে যুক্তরাষ্ট্রের তারকা স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ট্রাম্পের করা প্রকাশ্য মন্তব্য ও ফিফার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কড়া দাবি ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নিলে ট্রাম্প এটিকে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করেছিলেন:
"একটি বড় অবিচারের সংশোধন"
অবশ্য পুরো বিষয়টিতে মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান নিজে বেশ অপ্রস্তুত বোধ করেছিলেন বলে পরবর্তীতে অকপটে স্বীকার করেন। যদিও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় তিনি মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে বড় কোনো সাফল্য এনে দিতে পারেননি। শেষ ষোলোর সেই লড়াইয়ে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছিল স্বাগতিকরা।
মেটলাইফে ট্রাম্প-ইনফান্তিনো যুগলবন্দি
ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগেই আভাস দিয়েছিলেন যে, ফাইনালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্রফি হস্তান্তরের বিষয়টি আগে থেকেই নির্ধারিত সূচির অংশ ছিল। সুইজারল্যান্ডের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘ব্লু স্পোর্ট’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন:
"হ্যাঁ, আশা করছি আমরা একসঙ্গে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেব। শুরু থেকেই এমন পরিকল্পনা ছিল। সাধারণত যে দেশে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়, সেই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ফিফা সভাপতির সঙ্গে মিলে ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন।"
উল্লেখ্য, এর আগে নিউ জার্সির মাঠেই আয়োজিত ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালেও ইনফান্তিনোর সঙ্গে মিলে বিজয়ী দলের হাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি তুলে দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ আসরেও সেই চিরচেনা দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে। এখন কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর অপেক্ষা—মেটলাইফ স্টেডিয়ামের জমকালো মঞ্চে লিওনেল মেসি নাকি স্প্যানিশ অধিনায়কের হাতে সোনালী ট্রফি তুলে দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?