
বিশ্বকাপ জয়ের পথে আর মাত্র এক ধাপ দূরে স্পেন। সেই শেষ বাধা পেরোতে পারলেই জার্সিতে যুক্ত হবে দ্বিতীয় তারকা। তবে শিরোপার এত কাছে এসেও স্প্যানিশ শিবিরে নেই বাড়তি উচ্ছ্বাস। দলের লক্ষ্য এখন একটাই—রোববারের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতা।
স্পেনের এই যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন অধিনায়ক রদ্রি হার্নান্দেজ। টুর্নামেন্টের শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে শুরু করলেও সময়ের সঙ্গে নিজের সেরাটা তুলে ধরেছেন তিনি। মাঠে দলের খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন রদ্রি। তার বার্তা স্পষ্ট, ‘আমি এখানে বিশ্বকাপ জিততে এসেছি।’
দলের ভেতরে আত্মবিশ্বাস থাকলেও খেলোয়াড়রা নিজেদের সংযত রেখেছেন। স্পেনের ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়াইরসাবাল বলেন, ‘কেপ ভার্দে ম্যাচের পর যখন পরিস্থিতি খুব একটা ভালো ছিল না, প্রথম দিন আমার যেমন শান্তভাব ছিল, এখনও আমি ঠিক তেমনই শান্ত আছি।’
এই ধীরস্থির মানসিকতাই স্পেনের ড্রেসিংরুমকে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস থেকে দূরে রেখেছে। খেলোয়াড়রা মনে করছেন, ইতিহাসের একটি অধ্যায় লেখা হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি এখনো বাকি। তাই ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেই উদযাপন করতে চায় লা ফুরিয়া রোজা।
দলের ভেতরের পরিবেশেও সেই মনোভাবই স্পষ্ট। কোনো বড় আয়োজন বা আগাম উদযাপনের পরিবর্তে প্রতিটি জয়কে পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখছেন ২৬ সদস্যের স্কোয়াড। ম্যাচ শেষেই তাদের লক্ষ্য থাকে বিশ্রাম নেওয়া, ক্লান্তি কাটিয়ে ওঠা এবং পরবর্তী চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত হওয়া।
রদ্রি বলেন, ‘সবচেয়ে কঠিন অংশটি এখনও বাকি। সবাই বিশ্বাস করে কী ঘটতে পারে, তবে তারা প্রক্রিয়ার ওপরও আস্থা রাখছে। তারা জানে যে প্রতিটি পদক্ষেপ সাবধানে ফেলতে হবে, কারণ কোনো ধাপ এড়িয়ে গেলে বিশ্বকাপ কাউকে ক্ষমা করে না। আমরা এটি কল্পনাও করিনি, তবে আমরা এখন গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছি।’
এই সংযত মানসিকতার প্রতিফলন দেখা গেছে তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির কথাতেও। ফ্রান্সকে হারানোর পর তিনি বলেন, ‘ভেতর থেকে আমি খুবই আনন্দিত, কিন্তু আমি শান্ত আছি।’
কুবার্সির এই মনোভাবই যেন পুরো দলের প্রতিচ্ছবি। উনাই, লাপোর্তে, ওয়াইরসাবাল এবং রদ্রিসহ স্পেনের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই লক্ষ্য অর্জনের আগে বাড়তি আবেগে ভাসতে রাজি নন।
ফাইনাল নিয়ে কুবার্সি বলেন, ‘খুব বিশেষ কিছু দিন সামনে আসছে, আমরা নিউইয়র্ক যাচ্ছি, স্বপ্নটি এখনও বেঁচে আছে এবং আমরা ম্যাচটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আমরা সবাই একই লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। দলের জন্য আমাদের যা কিছু আছে, তার সবটুকু বিলিয়ে দেওয়াই আসল কথা। আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ছোটবেলায় কেউ এমনটি কল্পনাও করতে পারে না। আমরা এটি ভাবতেও পারিনি, কিন্তু এখন আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছি।’