
রাজধানীর মিরপুরে আট বছরের এক স্কুলছাত্রীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় পালিয়ে যাওয়া প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগে সকালে পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত রামিসা আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সকালে স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতির সময় তাকে বাসায় না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ভবনের তৃতীয় তলায় বিপরীত পাশের একটি ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা যায়। সন্দেহ হলে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করা হয়।
ভেতরে ঢুকে একটি কক্ষের খাটের নিচ থেকে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় তার কাটা মাথা। ঘটনাস্থলে তখন সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না অবস্থান করছিলেন। তবে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার পর স্বপ্নাকেও আটক করা হয়েছে। এ নিয়ে মামলার দুই সন্দেহভাজনই পুলিশের হেফাজতে আছেন।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়। অনেকেই ধারণা করছেন, শিশুটিকে হত্যার আগে নির্যাতন করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাস্থলে সকালে উপস্থিত হয়ে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে সোহেল রানাকেই প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি পেশায় রিকশা মেকানিক। হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য এবং ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে হত্যার আগে নির্যাতন করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট কাজ করছে।