
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হচ্ছে—এবার পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–এর মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানান, উভয় পক্ষ সম্মত হলে এই ‘অর্থবহ ও চূড়ান্ত’ আলোচনার আয়োজন করতে ইসলামাবাদ প্রস্তুত।
শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তির স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের চলমান সকল প্রচেষ্টাকে পাকিস্তান পূর্ণ সমর্থন জানায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্মত হলে এই সংকটের একটি সমন্বিত সমাধানের লক্ষ্যে অর্থবহ আলোচনার আয়োজন করতে পাকিস্তান গর্বিত বোধ করবে।’
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপথ্যে চলা কূটনৈতিক তৎপরতায় পাকিস্তান ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গত রোববার দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। পরদিন শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান–এর সঙ্গে আলোচনা করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক ও মিসর–এর পাশাপাশি পাকিস্তানও উভয় পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক থাকার কারণে ইসলামাবাদ আলোচনার জন্য উপযুক্ত ভেন্যু হতে পারে বলেও তারা মনে করছেন। এছাড়া ১৯৯২ সাল থেকে ওয়াশিংটনে ইরানের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব পাকিস্তান দূতাবাসের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়ে আসছে।
Reuters ও Axios–এর প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ইসলামাবাদ–এ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনার বিষয়ে আশাবাদী অবস্থান নিয়েছেন এবং দাবি করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগে রাজি হয়েছে। তবে তেহরান এখনো সরাসরি কোনো বৈঠকের কথা স্বীকার করেনি। ইরান জানিয়েছে, তারা ‘বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর’ মাধ্যমে আসা প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে।
এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।