
চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে একটি খসড়া সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এই বিষয়ে তার চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই ইরানিদের দুর্বল করতে পারবে না।
দুই দেশের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামাতে পর্দার আড়ালে তীব্র কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে এবং দুই পক্ষই ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয়েছে বলে হোয়াইট হাউস সূত্র নিশ্চিত করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই খসড়া সমঝোতা স্মারকের মূল বিষয়গুলো হলো:
টোল বা কর আদায় ছাড়াই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করার সুযোগ দেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া।
ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার।
সংলাপের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দকৃত ১২ বিলিয়ন ডলার অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা।
ইরান যাতে প্রয়োজনীয় পণ্য ও মানবিক সহায়তা পেতে পারে, সেজন্য একটি বিশেষ কার্যপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা।
লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার চলমান যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়টিও এই সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ থাকবে।
তবে এই শান্তি প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নির্ভর করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। ট্রাম্প ইতিমধ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের মোহ ত্যাগ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে চুক্তিটি চূড়ান্ত পর্যায়ের কাছাকাছি থাকার পরও পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত রয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ইরানের বন্দর আব্বাসে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা এই যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়াকে ভঙ্গুর করে তুলেছে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে ইরান নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে টার্গেট করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌযান লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে আইআরজিসি। পাশাপাশি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে বুশেহরে যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার এই দাবিটি অস্বীকার করা হয়েছে। একই সাথে, ইরানের হরমুজ প্রণালি পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।