
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য তৈরি করে প্রায় ১২ বছরের কূটনৈতিক দায়িত্ব স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন জাতিসংঘে প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশনের (পিভিএ) স্থায়ী প্রতিনিধি মোহামাদ সাফা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিস্থিতির জন্য জাতিসংঘ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সাফা লিখেছেন, ‘আমি মনে করি না মানুষ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারছে, কারণ জাতিসংঘ ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, তেহরান একটি প্রায় এক কোটি মানুষের শহর। নিজের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমি এই তথ্য ফাঁস করতে আমার কূটনৈতিক ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়েছি। নিউক্লিয়ার উইন্টার ঘটার আগেই তা ঠেকাতে আমি আমার দায়িত্ব স্থগিত করেছি, যাতে এই মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ বা সাক্ষী না হতে হয়।’
সাফা আরও অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের শীর্ষ পর্যায়ে একটি ‘শক্তিশালী লবি’ ভিন্নমত দমনে ভূমিকা রাখছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ‘গাজায় যা ঘটছে তাকে গণহত্যা, লেবাননে যা ঘটছে তাকে যুদ্ধাপরাধ ও জাতিগত নির্মূলকরণ এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ বলতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।
এছাড়া তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর ভিন্নমত প্রকাশের চেষ্টা করায় তিনি ও তাঁর পরিবার ‘মৃত্যুর হুমকি’ পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি নিয়ে ‘ভুয়া প্রচারণা’ চালিয়ে সামাজিক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। জনগণের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একমাত্র জনগণই এটা ঠেকাতে পারবে।’
উল্লেখ্য, মোহামাদ সাফা ২০১৩ সাল থেকে পিভিএর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং ২০১৬ সাল থেকে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)-এর বিশেষ পরামর্শক মর্যাদাপ্রাপ্ত সংস্থার স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
এদিকে, সাফার বক্তব্যের আগেই পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আঞ্চলিক পরিচালক হানান বালখিও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সম্ভাব্য এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি। তাঁর ভাষায়, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে পারমাণবিক ঘটনা, এটাই আমাদের সবচেয়ে বেশি চিন্তিত করছে। আমরা যতটা প্রস্তুতি নিই না কেন, ক্ষতি ঠেকানোর কিছু নেই। এই অঞ্চলের জন্য এবং এটা ঘটলে বিশ্বের জন্য পরিণতি দশকের পর দশক ধরে থাকবে।’