
ইরানি সেনারা আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মধ্য ইরানে তাদের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন পাইলটদের একটি গোপন আস্তানাও ধ্বংস করা হয়েছে, যা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর অংশ হিসেবে ঘটেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূপাতিত বিমানটি লেকেনহিথ স্কোয়াড্রনের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে বিমানটি ছিন্নবিচ্ছিন্ন হওয়ায় পাইলটের পরিণতি এখনও জানা যায়নি।
এর আগে আইআরজিসি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে কেশম দ্বীপের দক্ষিণে আরেকটি উন্নত যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ওই বিমান পরে হেনগাম ও কেশম দ্বীপের মাঝামাঝি পারস্য উপসাগরে আছড়ে পড়ে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের মিথ্যা দাবির পর আমাদের দেশের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা নৌবাহিনীর আধুনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে শত্রুর উন্নত যুদ্ধবিমানের আঘাত নিশ্চিত করা হয়েছে।’
এই ঘটনায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর যুদ্ধবিমান ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। গত ১১ মার্চ মধ্য ইরানের আকাশসীমায় আইআরজিসি একটি এফ-৩৫ ফাইটার জেটে আঘাত করেছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পরে নিশ্চিত করেছিল, বিমানটি জরুরি অবতরণ করেছে এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শিগগিরই সচল করা সম্ভব নয়।
এছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই তিনটি এফ-১৫ এবং একটি কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার হারিয়েছে। পেন্টাগন এই ক্ষতিগুলো ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা দুর্ঘটনা হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি নেভাদায় একটি এফ-৩৫ বিধ্বস্ত হওয়ার খবরও সামনে এসেছে, যা সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের বাস্তব ক্ষতি লুকানোর প্রচেষ্টা মাত্র।