
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ বাড়িয়েও দেশটিকে দ্রুত আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক কলিন ক্লার্ক। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের বাস্তবতা বিবেচনায় ইরানকে দুর্বল প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তিনি লেবাননে ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানকে দেশটির নিরাপত্তা কৌশলের চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত বলে মনে করেন।
একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্লার্ক বলেন, তিনি এ সংঘাতকে মূলত ‘নেতানিয়াহুর যুদ্ধ’ হিসেবে দেখেন। তার ভাষ্য, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও বিচারিক চাপের মধ্যে রয়েছেন এবং সেই বাস্তবতায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তার জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, নেতানিয়াহু বর্তমানে নিজ দেশে ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছেন। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত রাখা তার রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের অংশ হতে পারে।
ক্লার্কের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া এ ধরনের সামরিক অভিযান দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সংঘাতের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের অবস্থানের ওপর। মার্কিন প্রশাসন চাইলে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হতে পারে, আবার কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে এর অবসানের পথও তৈরি হতে পারে।
একই সঙ্গে সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতার বিষয়েও সতর্ক করেন এই বিশ্লেষক। তার মতে, ইরানকে দ্রুত নতি স্বীকারে বাধ্য করা সম্ভব হবে বলে যারা মনে করছেন, তারা বাস্তবতাকে উপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, ‘ইরান সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করবে না বা নতি স্বীকার করবে না। এটি এমন কোনো ‘কাগুজে বাঘ’ নয়, যাকে ভেনেজুয়েলার মতো রাতারাতি ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব। যখন ওয়াশিংটন এই বাস্তবতা উপলব্ধি করবে, তখন যুদ্ধ বন্ধের পথও সহজ হবে।’
তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানকে সামরিকভাবে চাপে রাখার কৌশলেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং সংঘাতের স্থায়ী সমাধান শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই খুঁজতে হবে।