
চলতি মাসের শুরুতে ইরানে বিমান হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল ইসরায়েল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করতে রাজি হননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হামলার পরিকল্পনা সত্ত্বেও ট্রাম্পের আপত্তিতে সেই অভিযান এগোয়নি বলে জানা গেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইমস অব ইসরায়েল-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
পারমাণবিক স্থাপনা থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র—লক্ষ্য ছিল বিস্তৃত
এ বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ অক্টোবরের সপ্তাহান্তে ইরানে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত ছিল ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিল ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, এবার যে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার ব্যাপকতা গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের চেয়েও বেশি হতে পারত।
হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা
পরিকল্পিত অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নিত কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে হামলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করা যাচ্ছে না।
অন্য একটি সূত্রের মতে, আইডিএফের এই পরিকল্পনা আলোচনায় চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেও ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ট্রাম্পের হাতেই রয়েছে।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
প্রতিবেদন প্রকাশের দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গোপনে ইসরায়েল সফর করেন। সফরে তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন।
এদিকে, ইসরায়েলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির মার্কিন কর্মকর্তাদের সতর্ক করে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন স্থগিত করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এর আগে ৯ অক্টোবর ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটন ইরানে হামলা চালাবে না। ফলে নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও ওই সময়ের মধ্যে সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আপত্তি ছিল বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল