
গাজা উপত্যকার অবরুদ্ধ মানুষের কাছে মানবিক সাহায্য নিয়ে যাওয়ার পথে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়া এক ফরাসি নারী নাগরিক রোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। গাজা অভিমুখী আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী নৌবহর বা ফ্লোটিলার কর্মী মেরিয়েম হাদজাল অভিযোগ করেছেন যে, ইসরাইলি হেফাজতে থাকাকালীন তিনি চরম শারীরিক নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি মুক্ত হয়ে ফ্রান্সে ফিরে আসার পর তিনি এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনেন।
একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের ওপর ঘটে যাওয়া পাশবিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে মেরিয়েম হাদজাল বলেন, ‘আমাকে যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। আমরা পৌঁছানোর পরই আমাদের গরম কাপড় খুলে নেওয়া হয়। এরপর তারা আমাদের কে এক এক করে একটি কালো কনটেইনারে যেতে বলেন।’
ভয়ার্ত সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, ‘ওই কনটেইনারে তিনজন সৈন্য ছিল। আর এক সেনা উলঙ্গ অবস্থায় মাটিতে শুয়ে ছিল। তাদের মধ্যে একজন আমার শরীরে স্পর্শ করা শুরু করে। এরপর আমার মাথায় খুব জোরে আঘাত করা হয়।’
ফরাসি এই অধিকার কর্মীর এমন গুরুতর অভিযোগের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে ইসরাইলের বিতর্কিত মন্ত্রী ইতেমার বেন গভির স্বশরীরে উপস্থিত থেকে এই ফ্লোটিলা কর্মীদের ওপর চালানো হামলা ও নির্যাতন প্রত্যক্ষ করছিলেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবরুদ্ধ গাজাবাসীর জন্য ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও খাদ্যসামগ্রীসহ বিপুল পরিমাণ মানবিক সহায়তা নিয়ে রওনা হওয়া ওই বহরে ৫০টিরও বেশি নৌযান যুক্ত ছিল। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার কর্মীরা এই অভিযানে অংশ নেন। তবে গত মঙ্গলবার সাইপ্রাসের কাছাকাছি সমুদ্রসীমায় পৌঁছালে ইসরাইলি নৌবাহিনী পুরো বহরটিকে অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং জোরপূর্বক নৌযানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়।
অভিযানের আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিনের ইসরাইলি সমুদ্র অবরোধ ভেঙে গাজায় প্রবেশ করা এবং সেখানকার চরম অমানবিক সংকটের প্রতি বিশ্ববিবেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই ছিল এই ফ্লোটিলা মিশনের মূল লক্ষ্য।
তবে মাঝসমুদ্রেই ইসরাইলি কমান্ডোরা নৌযানগুলোতে চড়াও হয়ে সব আরোহীকে বন্দি করে এবং তাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ইসরাইলের মূল ভূখণ্ডে স্থানান্তর করে।
ইতিমধ্যে মেরিয়েম হাদজালের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক কর্মী ইসরাইলি কারাগারে তাদের ওপর চালানো অমানবিক আচরণের কথা ফাঁস করেছেন। বন্দি থাকা অবস্থায় তাদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে তারা অভিযোগ তুলেছেন।