
সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা নেতিবাচক গুঞ্জন ও বিভ্রান্তিকর খবরে কান না দিয়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর সাধারণ গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন। গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক ভিত অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ব্যাংকে টাকা তোলার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সংকট নেই। সেই সাথে গ্রাহকদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বাংলাদেশ ব্যাংক) সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
সম্প্রতি বাজারে চলমান নানা অপপ্রচারের জেরে কিছু গ্রাহকের মনে তৈরি হওয়া উদ্বেগ এবং এর জেরে হুট করে অতিরিক্ত টাকা তোলার হিড়িক পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার (৭ জুন) এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন ভারপ্রাপ্ত এমডি। তিনি গ্রাহকদের নিশ্চিত করেন যে, ব্যাংকের সমস্ত শাখা ও উপশাখায় স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম পুরোপুরি সচল রয়েছে।
গ্রাহকদের জমানো আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং তা যেকোনো সময় উত্তোলনযোগ্য উল্লেখ করে মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, “সারাদেশে কিছু গ্রাহক আতঙ্কিত হয়ে বিভিন্ন মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ার খবরে বিভ্রান্তিতে পড়ে টাকা উঠানোর চেষ্টা করছেন। তাদের উদ্দেশ্যে আমার একটাই কথা-আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ইসলামী ব্যাংকের নিজস্ব আর্থিক ভিত্তি মজবুত এবং বড় কোনো তারল্য সংকট নেই।”
গ্রাহকদের শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে ব্যাংকের শীর্ষ এই কর্মকর্তা আরও বলেন, “আপনাদের টাকা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছে। গ্রাহকরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী যখন খুশি তখন ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকেও আমরা আশ্বস্ত করতে চাই যে, আমরা সবসময় গ্রাহকদের পাশে আছি এবং তাদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখতে যা কিছু করা প্রয়োজন, ইনশাআল্লাহ আমরা তা করব।”
অতীতেও এমন পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলার নজির টেনে তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়েও আমরা এ ধরনের বড় সংকটের মুখোমুখি হয়েছিলাম। কিন্তু ব্যাংকের প্রতি দেশের জনগণের অবিচল আস্থার কারণে আমরা সেই ধাক্কা সামলে উঠি এবং পরবর্তীতে আমাদের ডিপোজিট (আমানত) প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার মতো বৃদ্ধি পেয়েছিল। আশা করি, বর্তমান সাময়িক সমস্যাটি কেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইসলামী ব্যাংক এবারও এই অবস্থা থেকে শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।”
ব্যাংকের বর্তমান ম্যানেজমেন্ট ও ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় আমূল সংস্কারের কথা তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত এমডি বলেন, “পূর্বেকার ভয়ঙ্কর নভেম্বর বা সেই সময়কার যে প্রেক্ষাপট ছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন যেকোনো ধরনের ঋণ বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের স্পষ্ট স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা রয়েছে। আমাদের বিজ্ঞ পরিচালনা পর্ষদ প্রতিটি বিনিয়োগ অত্যন্ত দেখে শুনে অনুমোদন করেন।”
বর্তমান পর্ষদের নিরপেক্ষতা দাবি করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এখানে এখন কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের (বায়াসনেস) সুযোগ নেই এবং কারো ব্যক্তিগত স্বার্থ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। ফলে বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের টাকা অন্য কোথাও চলে যাওয়া বা পাচার হওয়ার কোনো সুযোগই নেই।”
পর্দার আড়ালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শক্ত ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক সবসময় আমাদের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও তারা পাশে থাকবে বলে আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমরা আশা করি, বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুতই আমাদের সহযোগিতার হাত আরও বাড়িয়ে দেবে।”
ভিডিও বার্তার শেষাংশে তিনি আবারও ব্যাংকের সকল স্তরের সম্মানিত আমানতকারী ও গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে ধৈর্য ধরার এবং ব্যাংকের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার বিনীত অনুরোধ জানান।