
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সড়কে ভারী যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঈদের আগে ও পরে সাত দিন সিমেন্ট, রড, পাথর ও বালুবাহী ট্রাক সীমিত আকারে চলবে এবং ঈদের আগের তিন দিন এসব ট্রাক সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর সেতু ভবনে প্রস্তুতিমূলক সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেকোনো মূল্যে ঈদযাত্রা নিরাপদ, নির্বিঘ্ন, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও স্বস্তিদায়ক করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সভায় চলমান প্রকল্পগুলোর নির্মাণসামগ্রী সড়কে ফেলে না রেখে দ্রুত অপসারণ, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং যানবাহনে অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ–এর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ ঈদে সেতুর উভয় প্রান্তে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) সিস্টেম সচল রাখার নির্দেশ দেন, যাতে কার্ডধারী যানবাহন দ্রুত পারাপার হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে সার্বক্ষণিক তদারকি এবং টোল প্লাজা ও বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
দ্রুত টোল আদায়ের সুবিধার্থে বুথে পর্যাপ্ত ভাঙতি টাকার ব্যবস্থা রাখার কথাও বলা হয়েছে। ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহন যাতে সেতু ও মহাসড়কে চলাচল করে যানজট সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে মালিক-চালক ও যাত্রীদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
তবে খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ, জ্বালানি ও পচনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচলে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভায় সেতু বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আওতাধীন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকরাও উপস্থিত ছিলেন।