
ঢাকার উত্তরায় একটি বাসা থেকে এক চীনা নাগরিকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওয়াং বু নামে ৩৭ বছর বয়সী ওই চীনা নাগরিক দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশে পাথরের ব্যবসায় করছিলেন। পুলিশ ধারণা করছে, ধারালো ছুরি দিয়ে ওই চীনা নাগরিককে খুন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ষষ্ঠ তলা বাড়ির নিচতলার ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে ওই চীনা নাগরিকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ফ্ল্যাটটিতে সহকর্মীদের সঙ্গে থাকতেন বলে জানিয়েছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত শাখার (সিআইডি) পুলিশ পরিদর্শক শেখ রাসেল কবির বলেন, ‘আঘাতের ধরন বিশ্লেষণে বোঝা যায় ১৪-১৫ ঘণ্টা আগে ওই ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মোট ১১টি ছুরির আঘাত পাওয়া গেছে। তবে কে বা কারা ওই চীনা নাগরিককে ছুরিকাঘাত করেছে তা জানা যায়নি।’
হত্যার আলামত উদ্ধারের বিষয়ে তিনি জানান, আলামত হিসেবে দুইটি মোবাইল ও ভিকটিমের রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। তার পুরাতন ও নতুন দুইটা পাসপোর্ট পাওয়া গেছে।
জানা যায়, এক মাস আগে উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর রোডের একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন ওয়াং বু। সেখানে তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে থাকতেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা সিসিটিভি ফুটেজে কয়েক সন্দেহভাজন চীনা নাগরিককে ওয়াং বুর সঙ্গে বাসায় ঢুকতে দেখেছি।’
‘প্রবেশের কিছুক্ষণ পরেই তারা আবার বাসা থেকে বের হয়ে আসেন। আমরা ধারণা করছি, সহকর্মীরাই ওই চীনা নাগরিককে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন।মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর ওই ব্যক্তিরাই হত্যার ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা পুলিশের।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ধারালো অস্ত্র দিয়ে চীনা নাগরিক ওয়াং বুকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আলামত সংগ্রহ করছে পুলিশ।’
মৃত ওয়াং হো নিজ বাবার মৃত্যুর পর রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) চায়না থেকে বাংলাদেশে আসেন। এর দুই দিনের মধ্যেই লাশ হন তিনি। বাংলাদেশে তার পার্টনারে ব্যবসা ছিল।
এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘নিহত চীনা নাগরিক তার সহকর্মীদের নিয়ে ওই বাসায় এক মাস আগে ভাড়ায় উঠেন। তিনি বাংলাদেশে নয় বছর ধরে পার্টনারে পাথরের ব্যবসায় করতেন।’