
বিশ্ববাজারের নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে জ্বালানি বিক্রির গোপন চেষ্টা নস্যাৎ করতে ইরানের ওপর আবারও অর্থনৈতিক অবরুদ্ধতার খড়্গ নামাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এবার তেহরানের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিদেশে রপ্তানির একটি শক্তিশালী গোপন নেটওয়ার্ক এবং এর সঙ্গে জড়িত একটি মুদ্রা বিনিময় (মানি এক্সচেঞ্জ) প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ওয়াশিংটন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের (ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট) পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রকাশিত বিবৃতিতে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, নিষিদ্ধ এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং পণ্যবাহী জাহাজগুলো মূলত ভুয়া ও বেনামি কোম্পানির আড়ালে কাজ করছিল। তারা সুকৌশলে ইরানি এলপিজিকে ওমানের উৎপাদিত জ্বালানি হিসেবে ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বাজারে চড়া দামে রপ্তানি করে আসছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং চীনভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট ইরানের এই অবৈধ এলপিজি পাচার কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নেপথ্য ভূমিকা পালন করেছে।
এর পাশাপাশি ইরানের একটি প্রভাবশালী মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান এবং এর উচ্চপদস্থ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। ওয়াশিংটনের দাবি, এই মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানটি এর আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কালো তালিকায় থাকা ইরানের বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের আন্তর্জাতিক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের প্রক্রিয়াকে পর্দার আড়াল থেকে সহজ ও গতিশীল করতে বড় ধরনের সহায়তা দিচ্ছিল।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, ইরানের ওপর আরোপিত বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা কিংবা তা এড়ানোর যেকোনো ধরনের অনৈতিক প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকা ব্যক্তি, করপোরেট কোম্পানি, পণ্যবাহী জাহাজ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আগামী দিনেও ওয়াশিংটনের এমন কঠোর ও আপসহীন ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
এই পদক্ষেপের ঠিক আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড এক ঘোষণায় জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ‘ডাভিনা’ নামের একটি বিশালাকার বাণিজ্যিক জাহাজকে তারা নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর সন্দেহ, এই জাহাজটি দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের অবৈধ বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য, ইরানকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে নেপথ্য থেকে মদদ দেওয়া এবং তহবিল জোগানো সমস্ত অবৈধ ও গোপন নেটওয়ার্কের মূলোৎপাটন করতে তাদের এই বিশেষ অভিযান সামনের দিনগুলোতেও সমানতালে চলবে।