
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন বা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে দেবীগঞ্জ উপজেলা থেকে সরিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর-এ সংযুক্ত করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ প্রশাসন শাখার উপসচিব সানজিদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক কারণে বাবুল চন্দ্র রায়কে বদলিপূর্বক নতুন কর্মস্থলে সংযুক্ত করা হয়েছে। আগামী ২৪ জুনের মধ্যে তাকে যোগদান করতে বলা হয়েছে, অন্যথায় ওই দিন থেকেই তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত বলে গণ্য করা হবে।
এর আগে তার বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশন গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পক্ষে প্রায় ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে ক্যালকুলেটরে হিসাব করে বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে কমিশনের পরিমাণ নির্ধারণ করতে দেখা যায়।
ভিডিওতে ৮ টন গমের বরাদ্দের বিপরীতে ৩৮ হাজার টাকা, একটি টিআর প্রকল্পের ১ লাখ ৬২ হাজার টাকার বরাদ্দের বিপরীতে ২৪ হাজার টাকা এবং আরেকটি প্রকল্পে ১৮ হাজার টাকা কমিশনের হিসাব করতে দেখা যায়। ভিডিওর শেষদিকে কয়েকজনকে টাকা গুনতে এবং ফাইলের সামনে অর্থ রাখতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর থেকে একটি তদন্ত দল বুধবার দেবীগঞ্জে যাওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেছে।
তবে বদলির আদেশে অভিযোগের বিষয়ে কোনো উল্লেখ করা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, শুধু বদলি নয়, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও মামলা দায়ের করা উচিত।
এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি বাবুল চন্দ্র রায়। অন্যদিকে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা জানিয়েছেন, পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে এবং দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।