
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিহত হওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক সহিংস বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। খবর জিও নিউজ-এর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ চলাকালীন ১০ জন, গিলগিত-বালতিস্তানের স্কারদুতে ১১ জন এবং ইসলামাবাদে ২ জন নিহত হয়েছেন।
করাচিতে প্রশাসন সব সড়ক বন্ধ করে দেয় এবং বিক্ষোভকারীরা সুলতানাবাদ সেতুর নিচে একটি ট্রাফিক পুলিশ পোস্টে আগুন জ্বালায়। আইআই চুন্দ্রিগড় রোডে সেন্ট্রাল পুলিশ অফিসের কাছে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। নেটিভ জেটি ব্রিজের কাছে কাস্টমস হাউস সংলগ্ন এলাকায়ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত ৩৪ জন আহত হয়েছেন। করাচির সিভিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিহত ও আহতরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
সিন্ধু সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ভাঙচুর চালিয়েছে। প্রাদেশিক সরকার এই ঘটনার তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ তদন্ত দল (জেআইটি) গঠন করেছে।
সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ শোক প্রকাশ করে করাচির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ আল্লামা শহেনশাহ হুসাইন নকভি ও আল্লামা শাব্বির মাইসামিসহ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জনমনে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান।
পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোরে শত শত বিক্ষোভকারী মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে সমবেত হন। সেখানে পুলিশের সঙ্গে ছোটখাটো সংঘর্ষের পর টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়।
ইসলামাবাদে কূটনৈতিক এলাকা ‘রেড জোন’-এ যাওয়ার সব সড়ক বন্ধ করা হয়। হাজারো বিক্ষোভকারী ডিপ্লোম্যাটিক এনক্লেভের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ টিয়ারশেল ও গুলি চালায়। এতে দুজন নিহত ও প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভী বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। ইরানের জনগণের মতোই প্রতিটি পাকিস্তানি শোকাহত।”
এদিকে শীর্ষ আলেমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে আহ্বান জানিয়েছেন। আল্লামা শহেনশাহ নকভি বলেন, “শোকের এই সময়ে ঐক্য ও সম্প্রীতি জোরদার করতে হবে।” আল্লামা শেখ আগা বাকির বলেন, “প্রতিবাদ নীতিগত অবস্থানের প্রতিফলন হলেও তা অবশ্যই শান্তিপূর্ণ হতে হবে।” আল্লামা তাহির আশরাফি যোগ করেন, “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সবার অধিকার; তবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ক্ষতিসাধন বা আগুন দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।”