
ইরানের ভিতরে এবং বাইরে ইসরায়েল এবং আমেরিকা যেন দীর্ঘ গোয়েন্দা জালে ঘিরে রেখেছে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্থাপনায় নির্ভুল আঘাত হানা আরও সহজ হয়েছে গোয়েন্দা তথ্যের কারণে। এরই প্রেক্ষিতে ইসরায়েলের কাছে সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহের অভিযোগে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক ডজন মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা যায়। গ্রেফতার অভিযান চালানোর সময় দেশটিতে নতুন নতুন লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রাদেশিক প্রসিকিউটরের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা নাকি ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনার অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য ইসরায়েলের কাছে পাঠিয়েছিল বলে জানিয়েছে আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা।
এছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও ১০ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামো সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের লোরেস্তান প্রদেশে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, বিদেশি শত্রুরা হামলার পাশাপাশি দেশের ভেতরে বিশৃঙ্খলা তৈরি করারও চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, কিছু তথ্যদাতা ইসরায়েলকে নিরাপত্তা চৌকি ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান জানিয়ে হামলা চালাতে সহায়তা করেছে।
এই গ্রেপ্তার অভিযান এমন সময় শুরু হয়েছে যখন দেশটিতে চলমান সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার ঘটনাও ঘটেছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে হওয়া বিক্ষোভে বহু মানুষ নিহত হয়, যার জন্য ইরানের কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।