
ভোলার চরফ্যাশনে উপজেলা পর্যায়ের জাতীয় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার হিসেবে পুরোনো, দাগযুক্ত ও ছেঁড়া বই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে। বিতরণ করা বইয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের নামও উল্লেখ রয়েছে। পুরস্কার হিসেবে এমন বই পেয়ে হতাশ হয়েছে শিশুরা। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগও।
গত ১২ অক্টোবর চরফ্যাশন উপজেলা মডেল মসজিদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উপজেলা পর্যায়ের জাতীয় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ভোলা জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, ইসলামী জ্ঞান, আজান, কবিতা আবৃত্তি, রচনা ও উপস্থিত বক্তৃতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় বিজয়ী কয়েকজন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের অভিযোগ, পুরস্কার হিসেবে দেওয়া বইগুলোর অনেকগুলোই কয়েক বছরের পুরোনো। কোনো কোনো বইয়ের পৃষ্ঠা ছেঁড়া, আবার কিছু বইয়ের গায়ে দাগ রয়েছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার হিসেবে নতুন বই পাওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত বই পেয়ে হতাশ হয় শিশুরা। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।
প্রতিযোগিতার বিচারকমণ্ডলীর এক সদস্যের দাবি, পুরোনো বই হাতে পেয়ে কয়েকজন শিশু অনুষ্ঠানস্থলেই কান্নায় ভেঙে পড়ে। শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করতে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণের ক্ষেত্রে এমন অব্যবস্থাপনা অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বিতরণ করা বইয়ের প্রকাশনা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, অধ্যাপক মাওলানা আশরাফ আলী আবাদীর অনুবাদ ও সংকলনে প্রকাশিত সৈনিকের চল্লিশ হাদিস বইটির চতুর্থ প্রকাশকাল ২০১৪ সালের আগস্ট। অন্যদিকে, মাওলানা আবুল হায়াত মুহাম্মদ তারেকের লেখা ওলীকুল শিরোমণি শায়খ মুহিউদ্দিন আবদুল কাদির জিলানী (কা.সি.) বইটির প্রথম প্রকাশকাল ২০১৭ সালের জুন। অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বই দুটি যথাক্রমে প্রায় ১২ ও ৯ বছরের পুরোনো প্রকাশনার। এ ছাড়া বিতরণ করা অন্য বইগুলোও সাত-আট বছরের পুরোনো বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
বিতরণ করা বইয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। এ নিয়ে ভোলা জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এম. মাকসুদুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের মতে, ভোলা জেলা উপপরিচালক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে শেখ মুজিবের চেতনা লালন ও ধারণ করতে চেয়েছেন।
প্রতিযোগিতার বিচারকমণ্ডলীর সদস্য মাওলানা নাসির উদ্দীন বলেন, “বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার হিসেবে পুরোনো বই দেওয়া হয়েছে। কেন ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের পুরোনো বই দেওয়া হলো, তা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভোলা জেলা উপপরিচালক বলতে পারবেন।”
অভিযোগের বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ভোলা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) এম. মাকসুদুর রহমান বলেন, “আমাদের বাজেটে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যারা পুরোনো বই পেয়েছে, তারা আমাদের জানালে নতুন বই দেওয়ার ব্যবস্থা করব।”
বইয়ের ভেতরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বই দেওয়া হয়নি। এগুলো আগের ছাপানো বই। তাই বইয়ে তাঁর নাম রয়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, “শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার হিসেবে পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত বই দেওয়ার অভিযোগটি দুঃখজনক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ধরনের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য শিশুদের উৎসাহিত করা ও তাদের সৃজনশীল বিকাশে সহায়তা করা। তাই পুরস্কার বিতরণের ক্ষেত্রে আরও যত্নশীল হওয়া উচিত।”
অন্যদিকে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমানের নাম লেখা বই হলে তা অবশ্যই পুরোনো। বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে এ ধরনের বই দেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”