
চারকোল শিল্প রক্ষা ও সংস্কারকে প্রাধান্য দিয়ে আগামী (২০২৫-২০২৭) নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ চারকোল ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিসিসিএমইএ)।
রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিসিসিএমইএ সাংবাদিক সম্মেলনে এই ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিসিসিএমইএ।
নির্বাচনী ইশতেয়ারে বলা হয়, গভীর সংকটে চারকোল শিল্প খাত। একদিকে নিয়ম নীতি না মেনে যত্রতত্র কারখানা গড়ে উঠছে অন্যদিকে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল অপপ্রচার চালিয়ে এ সেক্টরের ফ্যাক্টরি গুলো বন্ধ করার চেষ্টা করছে। চারকোল খাতকে রক্ষা করার স্বার্থে সময় এসেছে সকলে একতাবদ্ধ হওয়ার, চ্যালেঞ্জ সমূহ সন্মিলিতভাবে মোকাবেলা করার। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য প্রয়োজন একটি শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ টীম যারা দক্ষতার সাথে সমস্যা সমূহ চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য কাজ করবে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ইশতেহারকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।
(১) চারকোল শিল্প রক্ষা (২) চারকোল শিল্প সংস্কার ও উন্নয়ন
চারকোল শিল্প রক্ষা:
১. সকল ফ্যাক্টরির পরিবেশের ছাড়পত্র প্রাপ্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করা।
২. চলমান ফ্যাক্টরি সমূহকে ফায়ার লাইসেন্স, কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের লাইসেন্স,
পাট অধিদপ্তরের লাইসেন্স সহ প্রয়োজনীয় লাইসেন্স প্রাপ্তিতে সঠিক দিক নির্দেশনার
মাধ্যমে সহায়তা করা।
৩. সহজে ও সুলভে কাঁচামাল প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয়ব্যবস্থা গ্রহন করা।
৪. নতুন শিপিং লাইন খোলা এবং চারকোলকে সহজে রপ্তানি করার জন্য সকলকে সহযোগিতা
করা।
৫.চারকোলের বিক্রয় মূল্য বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশন এর সহায়তায়
কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করা।
চারকোল শিল্প সংস্কার ও উন্নয়ন:
বাংলাদেশের চারকোল শিল্প ১২ বছর পার করেছে। এ শিল্পকে টেকসই করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতি সহযোগিতা ও ক্রেতাদের পরামর্শে সকল ফ্যাক্টরিকে ধীরে ধীরে কমপ্লায়েন্ট ফ্যাক্টরি হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
১. চারকোলকে ক্ষুদ্র শিল্প থেকে মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানে উন্নিত করা।
২. ফ্যাক্টরির প্রডাকশনের বিপরীতে ব্যাংক থেকে লোন পাওয়া সহজতর করতে এসোসিয়েশনের
পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয়সহযোগিতা করা।
৩. বিসিসিএমইএ-কে এফবিসিসিআই তে অর্ন্তভূক্ত করা।
৪. চারকোল এসোসিয়েশনের একটা স্থায়ী অফিস করা।
৫. প্রোডাকশনে নিয়োজিত সকলের জন্য স্বাস্থ্য সেবা/ ইন্সুরেন্সের আওতায়আনা।
৬. দক্ষ শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় শ্রমিকের ট্রেনিং ও মূল্য সংযোজিত চারকোল পন্য
উৎপাদনের জন্য ‘বিসিসিএমইএ ট্রেনিং ইন্সটিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করা।
৭. বাজার সম্প্রসারণ ও নতুন বাজার তৈরি করার জন্য এসোসিয়েশনের উদ্যোগে টার্গেট
দেশসমূহে সদস্যদের নিয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সহযোগিতায় মেলার আয়োজন করে
রপ্তানির বাজার সম্প্রসারন করা।
৮. বিসিসিএমইএ-কে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অধিভূক্ত বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি)-তে
অর্ন্তভূক্তি করা।
৯. বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধিভূক্ত জেডিপিসি এর গর্ভনীং বডিতে সদস্য হিসাবে
বিসিসিএমইএ-কে অর্ন্তভূক্তি করা।