
ভারতের বিরুদ্ধে সীমান্ত হত্যা ও পুশইন ইস্যুতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান না নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
বুধবার (১০ জুন) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আযাদ বলেন, 'সরকারের কানে কি তুলো? নাকি ভাসুরের নাম নিতে ভয়'। তিনি দাবি করেন, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আরও দৃঢ় ও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে হত্যাকাণ্ড ও অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আযাদ বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সরকার অভিযোগ না করায় নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। তাঁর মতে, কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে স্পষ্ট অবস্থান নিতে দ্বিধা তৈরি হতে পারে, যা রাষ্ট্রীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে কোনো অপরাধ হলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও বাস্তবে তা অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সীমান্তে গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডকে স্বাভাবিকভাবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, এসব ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।
আযাদ আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে এবং পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হবে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ১১ দলীয় ঐক্যের অন্য এক নেতা সীমান্ত এলাকায় মানব প্রাচীর গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সীমান্ত ব্যবহার করে যাতে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড না ঘটে, সে বিষয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
আরও একজন নেতা পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে বলেন, বর্তমান অবস্থান থেকে সরে এসে আরও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া দরকার।