
কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন ফিরোজ কবির নামে এক যুবক। ধামরাই উপজেলায় প্রেমিকার ভাইয়ের হাতে জীবন দিতে হয়েছে তাঁকে।
রোববার (১০ মে) ভোরে এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত জহুরুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও ঘটনাপ্রবাহ
শনিবার রাত ১০টার দিকে ধামরাইয়ের গাংগুটিয়া ইউনিয়নের অর্জুন নালাই এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। নিহত ফিরোজ কবির ওই এলাকার আলহাজ উদ্দিনের সন্তান। প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনদের দাবি, একই গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে জহুরুল ইসলাম (৪২) তাঁর সহযোগী শাহীনকে সাথে নিয়ে ফিরোজের ওপর হামলা চালান।
নিহত ফিরোজ এবং ঘাতক জহুরুল একসময় ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তবে দুজনের বিরুদ্ধেই মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ জানায়, মাদক ব্যবসা নিয়ে তাঁদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল।
বিরোধের মূলে ‘প্রেম’ ও ‘কারামুক্তি’
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান জানান, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের পাশাপাশি জহুরুলের বোনের সঙ্গে ফিরোজের প্রেমের সম্পর্ক এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ। মাত্র ৪-৫ দিন আগে ফিরোজ জেল থেকে ছাড়া পেয়ে এলাকায় ফেরেন এবং পুনরায় জহুরুলের বোনের সঙ্গে দেখা করেন। বিষয়টি জহুরুলের পরিবার মেনে নিতে পারেনি।
শনিবার রাতে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠের কাছে জহুরুল ও ফিরোজের মধ্যে বোনের সঙ্গে দেখা করা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। তর্কের একপর্যায়ে জহুরুল ও শাহীন উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে ফিরোজকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পুলিশি পদক্ষেপ ও আইনি প্রক্রিয়া
স্থানীয়রা ফিরোজকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর অভিযানে নেমে রোববার ভোরে গাংগুটিয়া এলাকার একটি গোপন আস্তানা থেকে প্রধান অভিযুক্ত জহুরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ওসি নাজমুল হুদা খান বলেন, ‘মাদককারবার নিয়ে তাদের মধ্যে পূর্ববিরোধ ছিল। একই সঙ্গে জহুরুলের বোনের সঙ্গে প্রেম থাকায় তার পরিবার নিহত ফিরোজের ওপর বিরক্ত ছিল। বিগত ৪-৫ দিন আগেই সে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরে আসে এবং তার বোনের সঙ্গে ডেটিং করে। শনিবার রাতে তাদের দেখা হলে জহুরুল তার বোনকে উত্ত্যক্ত করা নিয়ে তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে জহুরুল তার সহযোগী শাহিনকে নিয়ে ফিরোজকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে ফেলে রেখে যায়।’
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় ধামরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।