
বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা, অসুস্থতা থেকে মুক্তি কিংবা বদনজর এড়ানোর আশায় অনেকেই তাবিজ ব্যবহার করেন। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে তাবিজ পরা কতটা বৈধ, এ বিষয়ে কোরআন ও হাদিসে কী নির্দেশনা রয়েছে এবং আলেমদের মধ্যে কেন মতপার্থক্য—তা নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা।
ইসলামি শিক্ষায় সব পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা, তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়া এবং কোরআন-সুন্নাহ অনুসারে আমল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাবিজের বিধান নির্ধারণের ক্ষেত্রে এর ভেতরে কী লেখা রয়েছে, কী উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ব্যবহারকারীর বিশ্বাস কেমন—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।
তাবিজ সম্পর্কে কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা
হাদিসে তাবিজসহ কিছু প্রচলিত আচার সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে তাবিজ ও অনুরূপ কিছু বিষয়ের নিন্দা করা হয়েছে। সুনান আবু দাউদসহ বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে এ-সংক্রান্ত বর্ণনা পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, শিরকমুক্ত ঝাড়ফুঁক বা রুকইয়ার অনুমতি রয়েছে। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, শিরকের উপাদান না থাকলে রুকইয়া করায় বাধা নেই। অর্থাৎ, কোরআন ও সুন্নাহসম্মত দোয়া পড়ে আল্লাহর কাছে আরোগ্য ও সুরক্ষা চাওয়া এবং শরীরে তাবিজ ঝুলিয়ে রাখার বিষয়টি এক নয়। এ দুটির বিধানও আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়।
কোরআনের আয়াত লেখা তাবিজ কি বৈধ?
কোরআনের আয়াত কিংবা আল্লাহর নাম লেখা তাবিজ ব্যবহার করা যাবে কি না, তা নিয়ে ইসলামি আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। একদল আলেম নির্দিষ্ট শর্তে এ ধরনের তাবিজ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। অন্য একদল আলেম তাবিজ নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে বর্ণিত হাদিস এবং এর অপব্যবহারের আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে কোরআনের আয়াত লেখা তাবিজ থেকেও বিরত থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন।
তবে তাবিজে শিরকপূর্ণ বাক্য, জিনের কাছে সাহায্য প্রার্থনা, অজানা মন্ত্র কিংবা ইসলামবিরোধী কোনো বিষয় থাকলে তা ব্যবহার করা বৈধ নয়। একইভাবে, তাবিজ নিজ ক্ষমতায় মানুষের উপকার বা ক্ষতি করতে পারে—এমন বিশ্বাসও ইসলামের একত্ববাদের শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তাবিজের বিকল্প হিসেবে যেসব আমল করা যায়
ইসলামে বিপদ থেকে সুরক্ষা, মানসিক প্রশান্তি ও কল্যাণ কামনায় কোরআন-সুন্নাহসম্মত বিভিন্ন আমলের নির্দেশনা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
* নিয়মিত আয়াতুল কুরসি পাঠ করা।
* সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিলাওয়াত করা।
* সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন দোয়া ও জিকির আদায় করা।
* অসুস্থতা কিংবা বিপদের সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করা।
* অসুস্থ হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।
* শিরক, কুসংস্কার ও ভিত্তিহীন বিশ্বাস থেকে দূরে থাকা।
তাহলে তাবিজ পরা কি জায়েজ?
ইসলামে তাবিজ ব্যবহারের বিধান নির্ধারণে এর উপাদান ও ব্যবহারকারীর বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ। শিরকপূর্ণ, অজানা মন্ত্রযুক্ত কিংবা ইসলামবিরোধী বিষয় লেখা তাবিজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। অন্যদিকে, কোরআনের আয়াত বা আল্লাহর নাম লেখা তাবিজের বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
এ কারণে এ ধরনের তাবিজ ব্যবহারের আগে বিশ্বস্ত ও যোগ্য আলেম বা মুফতির পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। তবে সুরক্ষা ও কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা, কোরআন-সুন্নাহসম্মত আমল করা এবং তাঁর ওপর নির্ভর করাই ইসলামি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দিক।