
বগুড়ায় দ্বিতীয় বিয়ের ১৫ দিন পর প্রথম স্ত্রীর তালাকের চিঠি পাওয়ার পরদিনই ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন নাফিউল ইসলাম নিরব (৩৫) নামে এক যুবক। শহরের সেউজগাড়ি এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিরব বগুড়া শহরের সেউজগাড়ি পালপাড়া এলাকার ফরিদুল ইসলামের ছেলে।
নিরবের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তার মিম জানান, গত ৪ অক্টোবর নিরবের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। ১৯ অক্টোবর নিরবের প্রথম স্ত্রী সাথী তাঁকে তালাকের চিঠি পাঠান। এর পরদিন রাত ৯টার দিকে নিরব তাঁর প্রথম স্ত্রীর বাড়ির পাশের একটি গলিতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই ঢাকায় নেওয়া হয়।
নিরবের ছয়টি বিয়ের কথা জানান দ্বিতীয় স্ত্রী
মরিয়ম আক্তার মিম বলেন, নিরবকে বিয়ে করার আগে শহরের চকসুত্রাপুর চামড়া গুদাম লেন এলাকার রাব্বী নামের এক যুবকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। পাঁচ বছর আগে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর নিরবের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তাঁরা বিয়ে করেন।
মিম জানান, বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, নিরব মোট ছয়টি বিয়ে করেছেন। সাথী তাঁর প্রথম স্ত্রী।
নিরবের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মিম বলেন, ‘নিরবের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার জ্ঞান ফেরেনি। কথা বলতে পারলে হয়তো জানতে পারতাম, কারা তাকে এভাবে কুপিয়েছে।’
হামলার কারণ জানতে পারেনি পুলিশ
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, নিরবের মাথা, হাত ও উরুতে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কী কারণে তাঁকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।