
ঢাকার ধামরাইয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বুলডোজার চালক ও তার সহকারী আহত হন এবং ঘটনাস্থলে অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের ঢুলিভিটা এলাকায় ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে হঠাৎ হামলা শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, উচ্ছেদ অভিযানের সময় ফুটপাতের কিছু ব্যবসায়ী বুলডোজার ও তার চালকের ওপর হামলা চালায়। এতে চালক ও সহকারী আহত হন। পরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় অভিযান স্থগিত করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, এটি তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বছরে একবার পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযান। নয়ারহাট শাখার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, ‘সড়ক বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আমরা সময়ে সময়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে থাকি। বছরে একবার হলেও এ ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়। সরকারি সড়কের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় যানজট সৃষ্টি হয়, পথচারীদের চলাচল বিঘ্নিত হয় এবং জনভোগান্তি বাড়ে।’
অন্যদিকে স্থানীয় হকাররা অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়া হঠাৎ অভিযান চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিদওয়ান আহমেদ রাফি বলেন, ‘সড়ক বিভাগের নিয়মিত উচ্ছেদ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ধামরাইয়ের ধুলিভিটা এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে প্রায় দেড় ঘণ্টা অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় কিছু দুষ্কৃতকারী হামলা চালিয়ে খননযন্ত্রের চালককে ইট-পাটকেলের আঘাতে আহত করেন।’
তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় সংসদ সদস্যও ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চলছিল। তবে কিছু দোকানদার কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, এতে ভেকু চালক গুরুতর আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হামলার পেছনে কারও ইন্ধন ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।