
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ‘মুখোশধারী’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তার অভিযোগ, গণঅভ্যুত্থানের পর জামায়াতের অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে এবং দলটির আমিরই প্রথম আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন।
শনিবার সকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মুরারীদহ এলাকায় ঐতিহ্যবাহী মিয়ার দালান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, ‘জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান যে মুখোশধারী ছিলেন তা অভ্যুত্থানের পরে আমরা দেখলাম। তিনি সর্বপ্রথম আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তিনিই সর্বপ্রথম বেইমানি করেছেন।’
এনসিপির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তিনি বলেন, এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম একসময় জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী এবং সার্বভৌমত্ববিরোধী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতি ভিন্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, ‘এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী, সার্বভৌমত্ব চায় না। এসব কথাবার্তা বলার পর তারাই এবার জামায়াতের পকেট বন্দি হয়েছে। এনসিপির যেসব প্রার্থী নির্বাচন করেছে তার সব খরচ দিয়েছে জামায়াত।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব দাবি নিয়েও এনসিপির সমালোচনা করেন তিনি। রাশেদ খাঁন বলেন, নাহিদ ইসলাম ও মাহফুজ আলম দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে নিজেদের গণঅভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার দাবি, মাহফুজ আলম মূলত নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক উপদেষ্টা।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা নিয়েও বক্তব্য দেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, বিরোধী দলের অনেক সংসদ সদস্য এখন সরকারি দলের এমপিদের সমপর্যায়ের সুযোগ-সুবিধা দাবি করছেন। তার দাবি, বাস্তবে তারা সরকারি দলের এমপিদের মতোই সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। এরপরও সরকারের সমালোচনা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় বিরোধী দল কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেত না। সেই তুলনায় বিএনপি সরকার বিরোধী দলকে বেশি সুযোগ দিচ্ছে এবং মূল্যায়ন করছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল তখন কিন্তু বিরোধী দল কোনো সুযোগ সুবিধাই পেতো না। সেই হিসেবে বিএনপি সরকার কিন্তু বিরোধী দলকে অনেক সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে, মূল্যায়ন করছে। তারপরও জামায়াত ও এনসিপির এমপিদের অবস্থা এমন যেন, সুখে থাকতে ভূতে কিলাচ্ছে।’
মিয়ার দালান পরিদর্শনের সময় রাশেদ খাঁনের সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।