
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। এক দিনের সফরে আগামীকাল রবিবার (৯ আগস্ট) তিনি জেলার বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। পরে নগরে বিএনপি চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা শাখার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে চট্টগ্রাম জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশ এরই মধ্যে নিরাপত্তাসহ সার্বিক প্রস্তুতি শেষ করেছে। একই সঙ্গে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও সফর ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মিছিল ও শোভাযাত্রা করেন দলটির নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় উদ্যোগে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এবং চট্টগ্রাম-নাজিরহাট মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই মহাসড়কের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করা হয়েছে। সড়কবাতিও সচল করা হয়েছে। পাশাপাশি নগরের শহীদ ওয়াসিম উড়ালসড়কের দুই পাশের রেলিংয়ে নতুন করে রং করা হয়েছে।
নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পর্কে নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অনুয়ায়ী আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। তাকে বরণ করার জন্য প্রস্তুত চট্টগ্রামবাসী।’
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সফরের সময় বাঁশখালী ও হাটহাজারীর সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে নতুন ঘর ও পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, রবিবার চট্টগ্রামে পৌঁছে হেলিকপ্টারে বাঁশখালী উপজেলার বাহাছড়া ইউনিয়নে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
এরপর ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসায় যাবেন।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক বলেন, মাদরাসায় আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন। সেখানে দেশের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে চট্টগ্রামে দলের প্রথম সাংগঠনিক সভা ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকে এই সভাকে সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে বিএনপির বড় বিজয়ের পর সাংগঠনিক মূল্যায়নের অংশ হিসেবে দেখছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম জানান, সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, কেন্দ্রীয় নেতারা এবং দলীয় সংসদ সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম সফরের সময় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন। মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা সভায় থাকবেন। উত্তর জেলায় বর্তমানে কমিটি না থাকায় বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভা কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতারা অংশ নেবেন। পাশাপাশি মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাও সভায় উপস্থিত থাকবেন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, তৃণমূলের নেতারা সরাসরি দলীয় প্রধানের সঙ্গে আলোচনায় বসার সুযোগ পাওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। সভা থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রবিবার রাতে নগরের একটি স্থানীয় হোটেলের অডিটোরিয়ামে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে আয়োজিত জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।