
বগুড়ায় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের লাইনচ্যুতির ঘটনা সম্পর্কিত তদন্ত প্রতিবেদনে তিনটি স্তরে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা রেল নিয়মাবলী উপেক্ষা করেছেন, যা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্টেশন মাস্টার চালককে প্রয়োজনীয় সতর্কতা বার্তা প্রদান করেননি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মকর্তারা লাল পতাকা সঠিক দূরত্বে প্রদর্শন করেননি। একইসঙ্গে ট্রেনের লোকোমাস্টারও সামনে থাকা সংকেত ও কাজের বিষয়ে পর্যাপ্ত সতর্ক ছিলেন না। এই কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জিএম ফরিদ আহম্মেদ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জানিয়ে বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি উঠে এসেছে। আমাদের যে এস্টাবলিশড রুল আছে সেটা লঙ্ঘন করা হয়েছে। রেলওয়ের কোনো জায়গায় যদি কাজ করতে হয়, তাহলে স্টেশন মাস্টারকে একটা অর্ডার ওপিটি ফর্ম ইস্যু করতে হয়। এটা ইস্যু করলে স্টেশন মাস্টার চালককে দিত। স্টেশন মাস্টার এই ফর্মটা যদি দিত তাহলে লোকোমাস্টারের জানা থাকতো যে এখানে কাজ হচ্ছে। কাজ হলে ওখানে স্পিড রেস্ট্রিকশন থাকে। গতি নিয়ন্ত্রণ থাকে। সেখানে ১০ কিলোমিটার বা ২০ কিলোমিটার এরকম থাকে। তো এটা জানা থাকতো আগে থেকেই সে লোকোমাস্টার সচেতনভাবে ওখানে কাজ করতে পারত।”
তিনি আরও বলেন, “লোকোমাস্টারের দায়িত্ব আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু তাকে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে, সামনে কি আছে না আছে। একটা লোকোমোটিভ থেকে অনেক দূরেই দেখা যায়। যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেখানে আগে থেকে রেলের কর্মীরা কাজ করছিল রেললাইনে। ওখানে ফ্ল্যাগ ছিল, ফ্ল্যাটটা এডিকুয়েট ডিস্টেন্সে ছিল না। তারপরেও ফ্ল্যাগ একটু খেয়াল করলে দেখা যেত। এটাও চালকেরও ভুল ছিল। ওখানে যারা কাজ করতেছেন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের যে কর্মকর্তা ওখানে দায়িত্বে ছিলেন উনারও সঠিক দূরত্বে ফ্ল্যাগ প্রদর্শন করেননি। যে দূরত্ব আমাদের প্রেসক্রিপ্ট রুলে বলা আছে, সেই অনুযায়ী ছিল না। এই কারণে তদন্ত কমিটি তিন পর্যায়ে দায়িত্বের অবহেলার কথা বলেছেন।”
ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি মাসের ১৮ মার্চ, যখন নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন বগুড়ার সান্তাহার জংশন অতিক্রম করার পর বাগবাড়ি এলাকায় লাইনচ্যুত হয়। দুর্ঘটনায় ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয় এবং ৬৬ জন যাত্রী আহত হন। তাদের আদমদিঘী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নওগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনার কারণে ওই রুটে ঢাকা ও রাজশাহী সহ উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
এ ঘটনায় ৬টি ট্রেন বাতিল এবং ৭টি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটে। একই দিন বিকেলে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় পাকশী বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় পাকশী বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী মইনউদ্দিন সরকারকে। কমিটি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন রেলওয়ের ডিজি বরাবর জমা দিয়েছে।
ফরিদ আহম্মেদ আরও জানান, “আমাদের অফিসিয়াল যে রুল আছে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। ওখানে তো ওনারা নির্দিষ্ট করে বলবে না ওদের জন্য আলাদাভাবে কি শাস্তি আরোপ করা যায়। এটার জন্য আলাদা কমিটি হবে, অফিসিয়াল যে প্রসিডিং হয়। সেই অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”