
ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী জোটের মনোনীত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী শাহ্ আকরাম আলী সমর্থনে আয়োজিত বিশাল জনসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, বাংলাদেশে একটি আধিপত্যবাদী শক্তি হেলমেট বাহিনী ও হাতুড়ি বাহিনী দিয়ে আবার ভয় দেখানোর রাজনীতি শুরু করেছে। নাগরকান্দা-সালথায় হুমকি দেওয়া হচ্ছে যে, রিকশা মার্কায় ভোট দিলে ১২ তারিখের পর ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হবে না। পরিষ্কার ভাষায় শুনে রাখো, আল্লামা আকরাম আলীর একজন নেতাকর্মীর গায়ে যদি হাত দেওয়া হয়, তবে যে আগুন জ্বলবে তা তোমরা সামাল দিতে পারবে না।”
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা সদরের মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে আয়োজিত সভায় তিনি আরও বলেন, “আমরা শান্ত থাকতে পছন্দ করি, কারো উস্কানিতে পা দিতে চাই না। আমাদের দিকে যে ভ্রাতৃত্বের হাত বাড়িয়ে দিবে, তার সাথে হাতে হাত রেখে কাজ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। কিন্তু কেউ যদি ভয় দেখিয়ে ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায়, তবে বাংলাদেশের মানচিত্রে তাদের কোনো জায়গা হবে না।”
স্থানীয় প্রশাসনের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে মামুনুল হক বলেন, “আল্লামা আকরাম আলী সাহেবকে আপনারা বুজুর্গ ও সাদাসিধে ভেবে দুর্বল মনে করবেন না। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় মুরুব্বি। তাকে যদি দুর্বল ভেবে তার অধিকার আদায়ে ত্রুটি করেন, তবে জনতার কাঠগড়ায় আপনাদের পাই পাই করে হিসাব দিতে হবে।”
মাঠ বরাদ্দ নিয়ে গড়িমসির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এম এন একাডেমির মাঠ বরাদ্দ নিয়ে আপনারা অনেক গড়িমসি করেছেন। কেন্দ্র থেকে আমাকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। আজকের পর বলে দিতে চাই, লেভেল প্লেইং ফিল্ড যদি নিশ্চিত করতে না পারেন, তবে এর দায় ফরিদপুরের ডিসি এবং সালথা-নগরকান্দার প্রশাসনকে নিতে হবে।”
জনসভায় শাহ্ আকরাম আলী ছাড়াও ১১-দলীয় জোটের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। হাজার হাজার মানুষ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে মাঠটি প্রায় সম্পূর্ণভাবে ভরে তোলে।