
ফারইস্ট টাওয়ার-২–এর কাজের আড়ালে কোটি টাকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। ভুয়া কার্যাদেশ ও জাল বিল ভাউচার তৈরি করে ১৩ কোটি ৭১ লাখ ৫১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
বুধবার (৪ মার্চ) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২–এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
আসামির তালিকায় রয়েছেন—ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম; সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হেমায়েত উল্যাহ; সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সেক্রেটারি সৈয়দ আব্দুল আজিজ; সাবেক প্রধান প্রকৌশলী এবং বিনিয়োগ ও রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আমীর মোহাম্মদ ইব্রাহীম; সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্যাংকিং শাখা প্রধান শেখ আব্দুর রাজ্জাক; এবং সাবেক হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স মো. কামাল হোসেন হাওলাদার।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ৩৬ তোপখানা রোড, ঢাকায় অবস্থিত ফারইস্ট টাওয়ার-২ ভবনের সাপ্লাই ও কনস্ট্রাকশন সংক্রান্ত সিভিল ও ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল রেট্রোফিটিং কাজের নামে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে অগ্রিম অর্থ প্রদানের উদ্দেশ্যে ভুয়া কার্যাদেশ দেওয়া হয়। অথচ সংশ্লিষ্ট কমিটির বৈঠকের এজেন্ডায় এমন অগ্রিম প্রদানের কোনো বিষয় ছিল না এবং অনুমোদিত রেজুলেশনেও স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, পরে জাল আবেদনপত্র ও বিল ভাউচার তৈরি করে মোট ১৩ কোটি ৭১ লাখ ৫১ হাজার টাকার ১৬টি চেক ইস্যু করা হয়। এসব চেকের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়। এর একটি অংশ ফারইস্ট ইসলামী প্রোপার্টিজ লিমিটেডের নামে পূর্বে জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া ঋণ সমন্বয়ে ব্যবহার করা হয় এবং অবশিষ্ট অর্থ নগদে তুলে আত্মসাত করা হয়।
মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট ভাউচারগুলোতে অনুমোদনকারী বা নিরীক্ষা-সংক্রান্ত কোনো স্বাক্ষর ছিল না। ব্যয়ের পক্ষে বৈধ সহায়ক কাগজপত্রও পাওয়া যায়নি।
দুদক জানিয়েছে, ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত এসব অনিয়মে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘন করেছেন। তদন্তে অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।