
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে সহিংসতার ঘটনায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও তাদের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এ সিদ্ধান্ত হাঙ্গেরির রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এগিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কালাস বলেন, দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে এখন বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে। তার মতে, সহিংসতা ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে অবশ্যই জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পশ্চিম তীরে সহিংস কার্যক্রমে জড়িত কিছু বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠী ও তাদের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দ্রুত বন্ধ হওয়া জরুরি।
আগে হাঙ্গেরির আপত্তির কারণে এ সিদ্ধান্ত আটকে ছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সেই বাধা দূর হয় এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথ খুলে যায়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন ব্যক্তি ও কয়েকটি সংগঠনকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ইসরায়েল এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও সংঘর্ষ প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে, যেখানে বসতি স্থাপনকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘর্ষ ঘটে আসছে।
তবে ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত করার মতো আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে এখনো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য হয়নি।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব প্রস্তুত করা হবে এবং পরবর্তীতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।